অঞ্জন শুকুল,নয়া জামানা, নদীয়া: তৃণমূল সরকারের আমলে ব্রিজ তৈরি করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল প্রায় ১১০০ কোটি টাকা।আজকে সেই টাকার নেই কোন হদিস। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের অভিযোগ, পুরো ব্রিজ তৈরির টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যদিও ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন নদীয়া জেলা সফরে, সেখানে নদীয়ার শান্তিপুর কালনার ব্রিজ তৈরি হয়ে গেছে এমনটাই কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর শুরু হয় চরম রাজনৈতিক বিতর্ক, এক শ্রেণীর মানুষের অভিযোগ ব্রিজ তো হয়নি কিন্তু সেই টাকা ঢুকেছে তৃণমূলের নেতাদের পকেটে। অবিলম্বে তদন্ত করে ওই টাকার হদিস খুঁজে বার করা হোক। অবশেষে দীর্ঘ টালবাহানার পর নদীয়ার শান্তিপুর কালনার বিতর্কিত ব্রিজ তৈরি নিয়ে শান্তিপুরের মুকুটে উঠতে চলেছে নতুন পালক। সোমবার রাজ্য বাজেটে প্রায় ১২ শো কোটি টাকা খরচে ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্য বাজেটে ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা ছড়িয়ে পড়তেই এক প্রকার মুখে চওড়া হাসি নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের। উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর আগে নদীয়ার শান্তিপুর কালনা এবং বর্ধমানের সংযুক্ত ব্রিজ তৈরির ঘোষণা করেছিল প্রাক্তন তৃণমূল সরকার, যেখানে বরাদ্দ করা হয়েছিল প্রায় ১১ শো কোটি টাকা।সিলমোহর দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। এরপর শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের কাজ, বেশ কয়েক বছর কেটে গেলেও শুধু হয়েছে জমি অধিগ্রহণ কিন্তু ব্রিজের কোনো দেখা নেই। একে একে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে উঠে আসে, প্রায় ১১২০ টাকার মধ্যে বেশ কয়েকশো কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করে এক শ্রেণীর মানুষ, আর সেই কারণেই জমি অধিগ্রহণ হলেও হলো না ব্রিজ। রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। সরকার গঠন করেছে বিজেপি।সোমবার নতুন রাজ্য সরকারের রাজ্য বাজেট পেশ হয়, আর রাজ্য বাজেটে চমক দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি একগুচ্ছ প্রকল্পের পাশাপাশি শান্তিপুর কালনা এবং বর্ধমানের সংযুক্ত ব্রিজ তৈরি করার কথা ঘোষণা করলেন। এখন দেখার মাটি পরীক্ষা এবং জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কত দিনে তৈরি হয় এই দীর্ঘ আপেক্ষকৃত ব্রিজ। অন্যদিকে ব্রিজ তৈরীর টাকা আত্মসাৎ নিয়ে আগেভাগেই সড়ব হয়েছিল বিজেপি, যাদের পকেটে বিরিজ নির্মাণের টাকা ঢুকেছে তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের আরজি জানানো হয়েছিল। যদিও তদন্তকারীর কমিটি গঠন হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেনি তদন্তকারীরা। যদিও নতুন রাজ্য সরকারের আমলে আদৌ কি এই ব্রিজ তৈরীর দুর্নীতি নিয়ে হবে কি তদন্ত বলবে সময়।
আরো পড়ুন:
‘আগে ব্রিজ পরে ভোট’, দাবি তুলে সরব বলরামপুরবাসী, ভোট বয়কটের হুশিয়ারি!