নয়া জামানা ৷৷ উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে আনন্দের আবহ। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার—তিন জেলা থেকেই একাধিক কৃতী ছাত্রছাত্রী রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়ে প্রমাণ করল, অধ্যবসায় ও লক্ষ্যনিষ্ঠ পরিশ্রমই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।
সবচেয়ে উজ্জ্বল ছবি ধরা পড়েছে কোচবিহার জেলায়। জেলার মোট সাতজন কৃতীর মধ্যে পাঁচজনই দিনহাটা মহকুমার। ৬৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে যুগ্মভাবে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে দিনহাটার গোপালনগর এমএসএস বিদ্যালয়ের শুচিস্মিতা পন্ডিত ও দীপ্তরাগ নাথ এবং মাথাভাঙা মহকুমার ঘোকসাডাঙা প্রামানিক উচ্চ বিদ্যালয়ের রৌনক মিত্র। ৬৯১ নম্বর পেয়ে সপ্তম স্থান দখল করেছে দিনহাটা গার্লস হাইস্কুলের স্নেহাস্মিতা বর্মন। ৬৮৯ নম্বর পেয়ে নবম স্থানে রয়েছে মাথাভাঙা গার্লস হাইস্কুলের সৃজা দেবনাথ। এছাড়া, ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে গোপালনগর এমএসএস বিদ্যালয়েরই শ্রেয়সী সাহা ও সৌগত পাল। এক স্কুল থেকেই চারজন পড়ুয়ার মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য।
জলপাইগুড়ি জেলাতেও কম উচ্ছ্বাস নেই। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র অর্চিষ্মান মজুমদার ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম স্থান অর্জন করেছে। নিয়মিত পড়াশোনা, সীমিত গৃহশিক্ষক ও পরিবারের সহযোগিতাকেই সে নিজের সাফল্যের মূল কারণ বলে জানিয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে অর্চিষ্মান।
আলিপুরদুয়ার থেকেও এসেছে গর্বের খবর। আলিপুরদুয়ার ম্যাক উইলিয়াম হাই স্কুলের ছাত্র দেবাদৃত সরকার ৬৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান দখল করেছে। ঘড়ি ধরে পড়াশোনার রুটিন নয়, বরং নিজের মতো করে প্রস্তুতিই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ছবি আঁকা ও গান শোনার মাঝেই পড়াশোনার চাপ সামলে সে এগোতে চায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথে।
ফালাকাটার জটেশ্বর হাইস্কুলের ছাত্র স্বরূপ কন্ঠ রাজ্যে পঞ্চম স্থান পেয়ে নজর কেড়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। অংক, ইংরেজি, পদার্থবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানে প্রায় নিখুঁত নম্বর এনে দিয়েছে এই সাফল্য। স্কুলের তরফে তাকে নিয়ে পদযাত্রা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবারের মাধ্যমিকের ফল শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়—উত্তরবঙ্গের শিক্ষা পরিকাঠামো ও শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বহু পড়ুয়াকে বড় স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই আশা শিক্ষামহলের।
গাজোল হাজিনাকু হাই স্কুলে হ্যাটট্রিক, মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় প্রথম দশে ৩ পড়ুয়া