নয়া জামানা, হাওড়া : জঙ্গি হামিম মণ্ডল কাণ্ডে ফের গ্রেফতারি বেঙ্গল এসটিএফের। এবার গ্রেফতার হল হামিমের সহযোগী আদিত্য সিং, ওরফে রাজ, ওরফে রাজু। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপে দীর্ঘদিন ধরে হামিমকে সহযোগিতা করে আসছিল আদিত্য। বিশেষত, পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর, একটি গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল আদিত্যর। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সম্পর্ক গভীর বন্ধুত্বে রূপ নেয়। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে আদিত্যর মগজধোলাই করে হামিম, এমনটাই দাবি তদন্তকারীদের। মগজধোলাইয়ের পরই তাকে নির্দিষ্ট অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়— পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব। মন্ত্রী ও মন্ত্রীপুত্র সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদিত্য নিয়মিত পাচার করত হামিম ও অর্পিতার কাছে, এমনটাই খবর।
হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করেই আদিত্যর হদিশ পান তদন্তকারীরা। এরপর হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে হামিমের জঙ্গি-যোগ ঠিক কতদূর বিস্তৃত, তার শিকড়ের খোঁজ করবেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, হাওড়ার পিলখানা এলাকায় প্রায় ১২ বছর ধরে ভাড়াবাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করত হামিম মণ্ডল। আলাম মিস্ত্রি লেনের একটি গলির ভিতরে একটি সাততলা বাড়ির নিচতলায় রয়েছে তাদের কারখানা। হামিম ও তার বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল দু’টি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে জামার টিপ তৈরির ব্যবসা চালাতেন।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মাঝে কিছুদিন নিউটাউনের একটি ভাড়াবাড়িতে ছিল হামিম। সেখান থেকে বর্ধমানে গিয়ে একটি অভিজাত আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে সে। গত বৃহস্পতিবার ওই আবাসনেরই জিম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। এরপর ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে।
এসটিএফ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, হামিম ও অর্পিতা শেহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সদস্য এবং তাদের সঙ্গে পাকিস্তান-যোগ স্পষ্ট। তদন্তকারীদের আরও দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলে জঙ্গিদের টার্গেটে ছিলেন। মন্ত্রীপুত্রকে হানিট্র্যাপে ফাঁসিয়ে অপহরণের ছক কষা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। আসন্ন স্বাধীনতা দিবসে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বান্ধবী ও সহযোগী-সহ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে বড়সড় সাফল্য পেল বেঙ্গল এসটিএফ।
নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন, বিহারের মন্ত্রী সহ ৪৫ বিধায়ককে হাইকোর্টের নোটিশ