ব্রেকিং
[pj-news-ticker]
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • ‘টেট সমস্যা’ সমাধানে অর্ডিন্যান্স জারির দাবি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে জেলাশাসককে ডেপুটেশন

‘টেট সমস্যা’ সমাধানে অর্ডিন্যান্স জারির দাবি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে জেলাশাসককে ডেপুটেশন

নয়া জামানা, মালদা: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার কর্মজীবনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দূরীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মালদা জেলা শাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ, পশ্চিমবঙ্গ (বিদ্যালয় শিক্ষা), মালদা....

‘টেট সমস্যা’ সমাধানে অর্ডিন্যান্স জারির দাবি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে জেলাশাসককে ডেপুটেশন

নয়া জামানা, মালদা: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার কর্মজীবনে তৈরি হওয়া....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা, মালদা: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার কর্মজীবনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দূরীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মালদা জেলা শাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ, পশ্চিমবঙ্গ (বিদ্যালয় শিক্ষা), মালদা জেলা শাখা।সংগঠনের ডাকে বৃহস্পতিবার মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় বৃহৎ ডেপুটেশন কর্মসূচি। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার তালুকদার, রাজ্য সহ-সম্পাদক সহদেব সাহা, মালদা জেলা সভাপতি মধুছন্দা মণ্ডল, জেলা সম্পাদক রঞ্জু মিশ্রসহ জেলা ও সার্কেল স্তরের দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থক। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি জমা দেন।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলা সভাপতি মধুছন্দা মণ্ডল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী দেশের প্রাথমিক (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) এবং উচ্চ প্রাথমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) স্তরের কর্মরত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য ‘টেট’ উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে চাকরিরত নন-টেট শিক্ষকদের জন্য ৩১ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হতে না পারলে পাঁচ বছরের বেশি চাকরির মেয়াদ অবশিষ্ট থাকা শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক অবসরের মুখোমুখি হতে হতে পারে। শুধুমাত্র ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে বা যাঁদের অবসর গ্রহণে পাঁচ বছরের কম সময় বাকি রয়েছে, তাঁদের এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বহু বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপর হঠাৎ করে এই শর্ত আরোপ করা অত্যন্ত অন্যায্য। এর ফলে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতাকেও ব্যাহত করতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আপাতত অর্ডিন্যান্স জারি করে এবং পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা উচিত।জেলা সম্পাদক রঞ্জু মিশ্র বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশে প্রায় ২০ লক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা সরাসরি প্রভাবিত হবেন। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে, যা শিক্ষক সমাজের মনোবল ভেঙে দিতে পারে এবং শিক্ষার মানের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও জানান, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম রায় ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং এনসিটিই -এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টির সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা শাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে ২০০১ সালের নিয়োগবিধি অনুসারে নিযুক্ত শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের দাবি, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ সালের এইচআরডি মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে পূর্ববর্তী আইনে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগগুলির ক্ষেত্রে পশ্চাৎমুখী প্রভাব প্রয়োগ করে যোগ্যতার মানদণ্ড বিচার করা হচ্ছে, যা শিক্ষকদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। ভারতীয় আইনি পরম্পরায় সাধারণত আইন কার্যকর হয় প্রণয়নের তারিখ থেকে; অতীতের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন যোগ্যতামান আরোপ করা ন্যায়সঙ্গত নয় বলেই সংগঠনের মত।রঞ্জু মিশ্র আরও বলেন, সংগঠন আশা করেছিল যে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা রিভিউ পিটিশনের রায় শিক্ষকদের পক্ষে যাবে। কিন্তু রায় প্রতিকূল হওয়ায় অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের সর্বভারতীয় সভাপতি নারায়ণ লাল গুপ্ত তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আইন সংশোধনের দাবি জানান।এই দাবিকেই সামনে রেখে ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে দেশের প্রতিটি জেলার জেলা শাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, শিক্ষক সমাজের স্বার্থে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্র সরকার দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


আরও পড়ুন:

সরকারি শিক্ষকদের টিউশন নিষেধাজ্ঞায় সমস্যায় পড়ুয়ারা, অভিভাবকদের স্মারকলিপি

 

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর