নয়া জামানা: সম্প্রতি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা শোধরাতে এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন। এই কমিটিতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকনি এবং আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর প্রফেসর ভি কামাকোটির মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। তবে সংসদে দাঁড়িয়ে এই কমিটির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে কংগ্রেস নেত্রী তথা ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কামাকোটিকে পরোক্ষভাবে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ করেন। সংসদে তাঁর এই মন্তব্যের সময় বিরোধীরা হাততালি দিলেও, শিক্ষিত সমাজে তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রিয়াঙ্কার এই বিদ্রুপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশের ২১৪ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ যৌথভাবে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।
শিক্ষাবিদরা তাঁদের চিঠিতে গভীর হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর বা ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের মন্তব্য করা হলেও তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংসদে যেকোনও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে সম্মানজনক ও যুক্তিভিত্তিক তর্ক হওয়া উচিত। কাউকে কোনো তকমা লাগিয়ে মূল্যায়ন করা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা একেবারেই অনুচিত। তাঁদের মতে, এই ধরনের বিদ্রুপের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক দর্শন ও অবদানকে খাটো করে দেখানোর ঝুঁকি থেকে যায়, যা সংবিধানে প্রদত্ত প্রতিটি নাগরিকের বিকাশের পরিপন্থী। যুক্তিযুক্ত আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ কখনোই আসল আলোচ্য বিষয়ের বিকল্প হতে পারে না।
প্রফেসর ভি কামাকোটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইআইটি মাদ্রাজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই বিজ্ঞানীর ১৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং ৫০টিরও বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে। দেশের অন্যতম সেরা এই শিক্ষাবিদকে এভাবে ‘গোমূত্র বিশারদ’ বলে ব্যঙ্গ করায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখন সর্বভারতীয় স্তরে বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্নের মুখে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের একজন প্রথম সারির গবেষক ও শিক্ষককে খাটো করার চেষ্টা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহলের বড় একটি অংশ।