আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, বর্ধমান : জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এবার সন্ত্রাসবাদী হিসাবে চিহ্নিত হামিম মন্ডলের বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করল এসটিএফ। বৃহস্পতিবার রাতে শহর বর্ধমানের রেঁনেসা উপনগরীর একটি জিম থেকে হামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং হোয়াটসঅ্যাপ – এর সূত্র ধরে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার কে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার রাতে ঝাড়খন্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে শনিবার তাকে তোলা হয় বর্ধমান আদালতে।
বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অর্পিতা জঙ্গিদের হয়ে মিডিলম্যান হিসাবে কাজ করতেন। তরুনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সদস্য হামিম মন্ডলের। ওই যুবকের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই গুপ্তচর সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে বলে এসটিএফ অফিসাররা মনে করছেন। তারপর ওই যুবকের বান্ধবী গ্রেপ্তার হবার পর তদন্তে নতুন মোড় নিলো। অর্পিতা সরকারের সঙ্গে হামিম মন্ডলকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চাইছে এসটিএফ। এর জন্য বর্ধমান আদালতে হামিমের বান্ধবীকে হেফাজতে নেবার আবেদন জানানো হয়।
এসটিএফ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ধৃত অর্পিতা সরকারের একটি নিজস্ব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা রয়েছে এবং তিনি ফটোগ্রাফার হিসেবেও কাজ করতেন। এই পেশার সুবাদেই সে বিভিন্ন উচ্চ মহলে এবং ভিভিআইপি ব্যাক্তিদের কাছে অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারতো। তদন্তকারীদের স্ক্যানারে এখন সেইসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। যাদের সঙ্গে অর্পিতার সম্ভাব্য যোগসূত্র ছিল। সূত্রের খবর, পাকিস্তান থেকে অর্পিতার কাছে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অপহরণের নির্দেশ আসত। তদন্তে আরও জানা গেছে যে, তথ্য আদান-প্রদানের জন্য অর্পিতা তার আইফোন -১৬ প্রো-তে এলিমেন্ট এক্স ( x) নামে একটি অত্যাধুনিক অ্যাপ ব্যবহার করতো। যা হলো একটি ওপেন-সোর্স এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত মেসেজিং ও ভিডিও কলিং অ্যাপ। যা বিকেন্দ্রীভূত ম্যাট্রিক্স প্রোটোকলের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি পুরনো এলিমেন্ট অ্যাপের দ্রুততর ও নতুন করে রাস্ট ভাষায় লেখা একটি সংস্করণ। তদন্তকারীরা বর্তমানে অর্পিতা সরকারের ফোনের যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখছেন এবং এই অ্যাপটি কাদের সাথে, কীভাবে এবং কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করছেন।
এদিকে হামিম মন্ডলকে গ্রেপ্তারের পর তার জঙ্গি যোগের নানা তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার সঙ্গে তরুণ এই সন্ত্রাসবাদীর নিবিড় যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফ সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। হামিমের বাড়ি কালনা মহকুমার মন্তেশ্বর ব্লকের দীর্ঘনগর গ্রামে। সেখানের বাড়িতে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বাড়িতে যাতায়াত ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারাই জানিয়েছেন। এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘনগর গ্রামের একটি বুথে সে ভোট দিয়েছেন । বর্ধমানের একটি কাপড়ের কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করতেন হামিম। কিন্তু বর্ধমান আদালতে তোলার পর হামিম নিজেকে কাশ্মীরের বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তবে বর্ধমানের অভিজাত এলাকায় রেঁনেসা উপনগরীতে ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মন্ডল। এখানেই রয়েছে হামিমের কাকারা বিলাসবহুল বাড়ি। তাঁর মাধ্যমেই এখানে ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। রেঁনেসা আবাসনে বাবা মা দুই ভাই এবং বোনের সঙ্গে থাকছিলেন। তবে উপনগরীতে তাদের কেউ খুব একটা চিনতেন না বলেই জানা গিয়েছে। এমনকি হামিমকে বড়ো একটা বাড়ির বাইরে দেখা যেতো না। অভিযোগ বর্ধমান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ অনান্য নেতা মন্ত্রীদের উপর নজরদারি চালাতেন। বর্ধমান থেকে কলকাতা এবং মন্তেশ্বররে দীর্ঘনগর গ্রামে বাইক চালিয়ে যাতায়াত করতেন । এখান থেকেই তথ্য পাচার হয়ে যেত কুখ্যাত পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর কাছে। এই কাজে তাকে সহায়তা করতেন বান্ধবী অর্পিতা সরকার। জানা গিয়েছে , ওই দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেয় শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠী। সেজন্য যাবতীয় তথ্য যাচাই করতে এসটিএফ অর্পিতা সরকারকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে মুখোমুখি জেরা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীই টার্গেট, যন্তর মন্তরেও নাশকতার ছক ছিল জইশ জঙ্গি হামিমের! বিস্ফোরক তথ্য দিল এসটিএফ