নয়া জামানা : শুক্রবার রাত পর্যন্ত ভারতীয় ক্রীড়ামহলে দানা বেঁধেছিল একরাশ আশঙ্কা। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রায় প্রতিটি আসরেই প্রথম পাঁচে থাকা ভারত সেদিন রাত পর্যন্ত ছিল পদক তালিকার ১০ নম্বরে— যা নজিরবিহীন। তবে বাংলার প্রবাদ প্রবচনে যেমন বলে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে, ঠিক তেমনটাই ঘটল। শনিবার রাতে বক্সিং রিং থেকে উঠে আসা একের পর এক সোনার পদক নিমেষে উড়িয়ে দিল সব দুশ্চিন্তা।
চলতি কমনওয়েলথ গেমসে শনিবার দিনটি ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একদিনেই সাতজন বক্সার সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছেন। পাশাপাশি প্যারা কমনওয়েলথ গেমস থেকেও এসেছে সোনার পদক। সব মিলিয়ে শুধুমাত্র শনিবারই ভারতের ঝুলিতে এসেছে আটটি সোনা। এই অভূতপূর্ব সাফল্যে রাতারাতি পদক তালিকায় চার নম্বরে উঠে এসেছে টিম ইন্ডিয়া, যেখানে সাধারণত কমনওয়েলথ গেমসে ভারত থাকে ৩ থেকে ৫ নম্বরের মধ্যে।
শনিবারের এই সাফল্যের নেপথ্যে মূল কারিগর ভারতীয় বক্সাররা, বিশেষত মহিলা বক্সাররা। এদিন বক্সিং রিংয়ে নেমেছিলেন মোট দশজন ভারতীয় বক্সার, যাঁদের মধ্যে সাতজনই সোনা জেতেন এবং তিনজন পান রুপো। সোনাজয়ী পাঁচ মহিলা বক্সার হলেন প্রীতি পাওয়ার, জেসমিন লাম্বোরিয়া, প্রিয়া ঘঙ্গাস, সাক্ষী চৌধুরি এবং অরুন্ধতী চৌধুরী। পুরুষদের বিভাগে সোনা জিতেছেন শচীন সিওয়াচ এবং অঙ্কশ পাঙ্গাল।
মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের ফাইনালে প্রীতি পাওয়ার ৫-০ ব্যবধানে কানাডার স্কারলেট ডেলগাডোকে উড়িয়ে দিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন। এরপর ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন লাম্বোরিয়া ৫-০ ব্যবধানে উত্তর আয়ারল্যান্ডের মিকায়েলা ওয়ালশকে হারিয়ে সোনা জেতেন। সন্ধ্যায় মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগের ফাইনালে সাক্ষী চৌধুরি ৫-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে পরাস্ত করে সোনা জেতেন। ৬০ কেজি বিভাগে প্রিয়া ঘঙ্গাস ৪-১ ব্যবধানে কানাডার মারি বাথুল আল-আহমাদিয়েহকে হারিয়ে সোনা জেতেন। আর ৭০ কেজি বিভাগের ফাইনালে অরুন্ধতী চৌধুরী ৫-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের চ্যান্টেল রিডকে হারিয়ে সোনার পদক ছিনিয়ে নেন।
তবে সবার ভাগ্যে সোনা জোটেনি। ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে অসমের কন্যা লভলিনা বরগোহাঁই ১-৪ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার এমা সুপ্রিনট্রির কাছে হেরে যান এবং রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে।
পুরুষদের বিভাগেও ভারতের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। ৬০ কেজি বিভাগে শচীন সিওয়াচ ৩-২ ব্যবধানে ট্রইএগেইন মর্নিং এনডেভেলোকে হারিয়ে সোনা জেতেন। ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কশ পাঙ্গাল ৪-১ ব্যবধানে দিমেজি শিতুকে হারিয়ে সোনার পদক নিশ্চিত করেন। তবে ৯০ কেজি প্লাস বিভাগের ফাইনালে নরেন্দর বেরওয়াল ০-৫ ব্যবধানে ড্যামার থমাসের কাছে হেরে রুপো পান। এছাড়া ৫৫ কেজি বিভাগে জাদুমণি সিংকেও রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
বক্সিংয়ের পাশাপাশি প্যারা স্পোর্টস থেকেও এসেছে সুখবর। এফ৫৭ শটপাট বিভাগে ভারতের সোমন রানা ১৩.৪০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সোনা জেতেন। একই বিভাগে শুভম জুয়াল ১৩.২৮ মিটার ছুড়ে রুপো পান।
শনিবারের এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর দিনের শেষে ভারতের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯টি— যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। পদক তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যাদের ঝুলিতে ৬৫টি সোনা-সহ মোট ১৫৮টি পদক। দ্বিতীয় স্থানে ইংল্যান্ড, তাদের সংগ্রহে ২৬টি সোনা-সহ মোট ১০২টি পদক। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কানাডা, যাদের মোট পদকসংখ্যা ৫৯, যার মধ্যে সোনা ১৮টি।
আরও পড়ুনঃ
সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে তল্লাশি, উদ্ধার ৪ কোটির সোনা