সাজাহান আলি,নয়া জামানা,দক্ষিণ দিনাজপুর: বাড়ির ছাদে শোভা পাচ্ছে কচি কচি সবুজ আপেল। মূলত শীতের জনপ্রিয় ফল আপেল। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন আপেল হিসেবে নতুন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে তাতে আপেল ধরার ঘটনা নজরে আসতেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে পতিরাম ও আশপাশের এলাকায়। পতিরামের আবহাওয়ায় একটু একটু করে বড় হচ্ছে বহু প্রত্যাশিত এই আপেল। আশা করা হচ্ছে ,আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ দিনাজপুরের ভিন্ন প্রকৃতির আবহাওয়ায় বড় হতে চলা এই আপেল খেতে সুস্বাদু ও দেখতে খুব সুন্দর হবে। আপেল গাছের আশেপাশে গড়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি নানারকম ফল ও ফুলের গাছের সমন্বয়ে অপূর্ব এক ছাদ বাগান। শীতের জনপ্রিয় ফল আপেলকে গরম আবহাওয়ায় পতিরামের মত জায়গায় নতুন গাছ লাগিয়ে আপেল ধরানোর ঘটনায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় খুব ভালো সাড়া পড়েছে। এই ছাদ বাগান শোভা পাচ্ছে পতিরাম ঘোষ জমিদার বাড়ির দোতলার ছাদে। আপেলের পাশাপাশি নানান রকমের দেশি-বিদেশি ফুল ও ফলের সমাহারে পতিরাম জমিদার বাড়ির এই ছাদবাগান দৃষ্টি আকর্ষণ ও মনকে ভালো করার এক ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।৮৬ বছর বয়সী একদা জমিদার সাগর ঘোষ বর্তমানে পতিরামের বাড়িতে ছাদ বাগান নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য একজন লোক রয়েছে। ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও ইন্দিরা গান্ধীর শাসন আমলে ইন্টারন্যাশনাল ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ছয় মাসের জন্য সাগর ঘোষ আমেরিকায় গিয়েছিলেন।তৎকালীন জমিদার পুত্র সাগর ঘোষ আমেরিকায় থাকাকালীন বিভিন্ন কৃষক পরিবারের সঙ্গে ভারতের এই প্রতিনিধি দলের নিবিড় যোগাযোগ তৈরি হয় এবং মার্কিন উন্নত কৃষি ব্যবস্থা স্বচক্ষে দেখে এসে কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দান করেন। সেই থেকে নিজের বাড়িতে বিভিন্ন গাছপালা লাগানো এবং ছাদবাগান তৈরির পরিকল্পনা করেন। গত কুড়ি বছর ধরে পতিরামের ঘোষ জমিদার বাড়িতে ছাতবাগান তৈরির মূল কারিগর সাগর বাবু নিজেই। বিশেষ করে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং কৃষি উন্নয়নে তাঁর পরামর্শ সাগর বাবুকে আজও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে। এর ফলশ্রুতি স্বরূপ দেশি-বিদেশি নানান রকমের ফল ও ফুলের গাছ লাগানো এবং তার ফলাফল তাকে এই ৮৬ বছর বয়সেও চির নবীন করে রেখেছে।এক সময়ের প্রজা কল্যাণকামী জমিদার সাগর ঘোষ বর্তমানে বাড়িতে বসেই দৈনন্দিন কাজকর্ম, ইভিনিং ওয়াক ও ছাদ বাগান নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তিনি জানালেন, অন্য ভ্যারাইটির এই আপেল গাছ দুই বছর আগে লাগানো হয়েছে। প্রায় তিনমাস হল এই গাছে সুন্দর আপেল ধরেছে। বর্তমানে আপেলের রং সবুজ হলেও আরো সময় গেলে তা দেখতে খুব সুন্দর ও পাকা হয়ে উঠবে । সাগরবাবুর আশা , আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই আপেল খাওয়ার উপযুক্ত হবে এবং সুস্বাদু হবে। এর পাশাপাশি প্রায় তিন মাস হল হরিমোহন ৯৯ প্রজাতির আরও একটি আপেল গাছ লাগানো হয়েছে ছাদে। টবে লাগানো এই গাছটিতেও যথাসময়ে খুব ভালো আপেল ধরবে বলে সাগর বাবু আশা করছেন। এই জমিদার বাবুর কথায় ,কাশ্মীর , হিমাচল প্রদেশ সহ বিভিন্ন জায়গায় শীতকালে প্রচুর আপেল উৎপন্ন হয়। কিন্তু আমি খোঁজখবর করে গ্রীষ্মকালীন আপেল লাগিয়েছি এবং ইতিমধ্যেই তাতে ফল ধরেছে। সাগর বাবুর ধারণা,দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আবহাওয়ায় ঠিকমতো পরিচর্যা করলে এই জেলাতেও গ্রীষ্মকালীন আপেল চাষ হতে পারে। আপেল ছাড়াও জমিদার বাড়ির ছাদ বাগানে দেশি-বিদেশী আম , কাঁঠাল , আঙ্গুর , ড্রাগন ফল , লিচু , মনিফল জলপাই , কামরাঙ্গা , আমলকি , সুপারি , বেল , মৌসম্বি লেবু সহ কত কি রয়েছে।অন্যদিকে এই ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে গোলাপ, জবা , ক্যামেলিয়া,আজেলিয়া , অর্কিড, বেলী, ডালিয়া, পদ্মসহ নানান রকমের ফুল। রয়েছে শাকসবজিও। মোটকথা, নানান ফল ও ফুলের মাঝে গ্রীষ্মকালীন আপেলের চাষকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে করে গ্রীষ্মকালীন আপেল উৎপাদনের বিষয়টিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রতিষ্ঠিত করাই তার লক্ষ্য বলে সাগর বাবু জানালেন।
আরও পড়ুন: