নয়া জামানা, নাগরাকাটা: রাজ্যের বন, পরিবেশ এবং পর্যটন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সুসংহত নীতিমালা তৈরির মাধ্যমে অরণ্য সম্পদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেন নতুন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। সোমবার চাপরামারির বন বাংলোয় বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর বলে তিনি দাবি করেন।
মন্ত্রী জানান, অফিসের চার দেওয়ালে বন্দি না থেকে তিনি সরাসরি নীচুতলায় নেমে আধিকারিকদের মতামত নিচ্ছেন। বড় প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা এবং বাকি বিষয়গুলিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে। এদিন বন দপ্তরের তীব্র কর্মী সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, বহু বছর নিয়োগ না হওয়ায় কোথাও কোথাও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি, রেঞ্জগুলিতে গাড়ির অপ্রতুলতা ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টিকেও তিনি খতিয়ে দেখছেন।
ডুয়ার্সের ভূমিপুত্র হিসেবে বনমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মানুষ-বন্যপ্রাণের (বিশেষত হাতি ও চিতাবাঘ) সংঘাত রুখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বিশেষ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া, পূর্বতন সরকারের আমলে জঙ্গলে ঢোকার এন্ট্রি ফি মকুবের ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্তের কারণে রাজস্ব ও জিপসি সাফারির অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা করা হবে। গরুমারায় কুনকি হাতির সংখ্যা কমে যাওয়ার সমস্যাটিও তিনি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের একাধিক উচ্চপদস্থ বন আধিকারিক এবং জলপাইগুড়ির সাংসদ ও বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
মন্দিরে রাজনীতি নয়; গঙ্গাজল ছিটিয়ে কঙ্কালীতলায় বিশেষ শুদ্ধিকরণ