নয়া জামানা : জনরোষ ও হামলার আশঙ্কায় রবিবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে নির্ধারিত কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের জরুরি বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কাউন্সিলররা প্রবল জনরোষের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে বহু কাউন্সিলর নিরাপত্তাহীনতার কারণে বৈঠকে যোগ দিতে সরাসরি অনীহা প্রকাশ করেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি ও ফোনে আপত্তি জানান।
ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূলের কাউন্সিলর ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। রবিবার গ্রেফতার হয়েছেন জোড়াসাঁকোর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠককে কেন্দ্র করে শাসকদল বিজেপির তরফে তৃণমূল ভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কা ছিল। এমনকি বিক্ষুব্ধ জনতা কাউন্সিলরদের লক্ষ্য করে ডিম বা পচা টমেটো ছুড়তে পারে বলেও খবর পৌঁছেছিল দলীয় নেতৃত্বের কাছে।
এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন্ন দিল্লি সফরও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে তিনি শীঘ্রই দিল্লি যাচ্ছেন। দিল্লি সফরের ঠিক আগে দলীয় কার্যালয়ে বা কাউন্সিলরদের উপর ডিম ছোড়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে দলের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হত বলে মনে করেছেন নেত্রী।
বৈঠক বাতিল হলেও নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া থামছে না। তৃণমূল সূত্রে খবর, শহরের কোনও গোপন ও সুরক্ষিত স্থানে ছোট ছোট দলে ভাগ করে কাউন্সিলরদের ডেকে নতুন মেয়রের নামে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ৫ জুন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের জন্য প্রবল চাপ তৈরি হয়েছিল। মেয়রের পদত্যাগের পর পুরনিগমের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর ইতিমধ্যে কেন বর্তমান পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব তলব করেছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে পুনরায় ওই পদে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
দলীয় কার্যালয় বদলে মুদির দোকান, কাউন্সিলর এর কাণ্ডদেখে হতবাক সবাই