নয়া জামানা,কলকাতা:তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত গৃহবন্দি করার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিকেলে নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ফেসবুকেই আপনি থাকুন বিকেল বেলা। আপনাকে রাস্তায় বেরতে হবে না। আর রাস্তায় আপনি যাতে না বেরতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে। পাল্টা জবাবে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন তুলে সরাসরি রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে আবাস প্রকল্প— সব ক্ষেত্রেই আগের সরকারের আমলে স্বজনপোষণ ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করা হয়েছিল। নন্দীগ্রামের একটি ব্লকে আবাসের ঘর বণ্টনের একটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের আমলে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেছে বেছে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হত। এর বিপরীতে বর্তমান সরকার কোনও বৈষম্য না করেই জুন মাস থেকে রাজ্যের সমস্ত যোগ্য মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের আগেই অবশ্য ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের নীতি ও অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে জনগণনা পর্যন্ত একাধিক বিষয়ে সুর চড়িয়ে তিনি বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু বিকেলে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পরই দুই শিবিরের সংঘাত চরম আকার নেয়।মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, এটি ভারতীয় রাজনীতিতে এক চরম অধঃপতনের নজির। তাঁর অভিযোগ, একটি সাংবিধানিক পদে বসে থেকে, খোদ সরকারি দফতরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীর অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন,এর প্রকৃত অর্থ কী? গৃহবন্দি করা? ভয় দেখানো? নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? সাংবিধানিক গণতন্ত্রে কে অবাধে চলাফেরা করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ওঁর আছে কি?বিষয়টিকে নিছক ব্যক্তিগত আক্রমণের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং ভিন্নমতকে শাস্তি দেওয়াই এখন বর্তমান ব্যবস্থার চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোটা দেশ এক বিপজ্জনক স্বৈরতান্ত্রিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্ষমতার জোরে কিছু সময়ের জন্য ভয় দেখানো গেলেও শেষ পর্যন্ত জনতার আদালতে জবাবদিহি করতেই হবে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
জল নেই তো ভোট নেই! নির্বাচনের মুখে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি স্থানীয়দের