নয়া জামানা,কলকাতা : প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলার মুকুটে জুড়ল নতুন পালক।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের হাত ধরে রাজ্যে প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকার পাঁচটি মেগা প্রকল্পের সূচনা হল।এই বিনিয়োগকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে কৃতজ্ঞতা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর দাবি,বাংলায় বিনিয়োগ আনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজনাথ তা এবার বাস্তবের মাটিতে রূপ পেল।মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দিল্লিতে রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন,সেই সময় বাংলার শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।রাজনাথ সিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলার শিল্পক্ষেত্রকে নতুন গতি দিতে কেন্দ্র সহযোগিতা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘রাজনাথ সিং কথা দিয়ে কথা রাখার মানুষ।’’এদিন আনুষ্ঠানিক ভাবে পাঁচটি মেগা প্রকল্পের সূচনা হয়। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে রায়চক শিপইয়ার্ড, টিম্বার পন্ড শিপ বিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপ বিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্ট এবং ৩,০০০ টনের ওপেন ডাই ফোর্জিং প্রেস।এই প্রকল্পগুলির হাত ধরে রাজ্যে প্রতিরক্ষা উৎপাদন,জাহাজ নির্মাণ এবং ভারী শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সচিব, জিআরএসই-র পদস্থ আধিকারিক, রাজ্যের মুখ্য সচিব, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়েই এই বৃহৎ প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে বার্তা দেওয়া হয়।তবে শিল্পের এই নতুন সম্ভাবনার মঞ্চ থেকেই আগের তৃণমূল সরকারের নীতির সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর অভিযোগ,জমি, দক্ষ মানবসম্পদ,পরিকাঠামো ও কাঁচামালের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল।তাঁর দাবি,এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে সেই ছবিই বদলাচ্ছে।প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভারতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘অপারেশন সিঁদুর’, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গ তুলে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি চরৈবেতি’ মন্ত্রকে সামনে রেখে এগিয়ে চলার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর বক্তব্য,রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি আরও মজবুত হবে।আর বাংলায় ৩,৪০০ কোটির এই বিনিয়োগ শিল্পের মাটিতে নতুন আশার আলো দেখাবে।