তনয় কুমার মিশ্র,নয়া জামানা ,মালদা : বিদ্যাঞ্জলি পোর্টালের নাম করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। ভারত সরকারের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের অধীন বিদ্যাঞ্জলি পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রতারণা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিদ্যাঞ্জলি একটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের প্ল্যাটফর্ম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোনও চাকরি, কর্মসংস্থান বা বেতনভুক্ত সুযোগ প্রদান করা হয় না। ফলে বিদ্যাঞ্জলির নাম করে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া বা তার বিনিময়ে অর্থ দাবি করার ঘটনা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও প্রতারণামূলক।
বিদ্যাঞ্জলির সরকারি নির্দেশিকাতেও উল্লেখ রয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় স্বেচ্ছাসেবকদের কোনও পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় না। পাশাপাশি কোনও স্বেচ্ছাসেবী কাজের ভিত্তিতে স্কুল বা শিক্ষা দপ্তরে চাকরির দাবি করা যায় না।
বিদ্যাঞ্জলি হল কেন্দ্রের স্কুল ভলান্টিয়ার প্রোগ্রাম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও কিংবা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারেন। পড়াশোনায় সহায়তা, মেন্টরিং, কেরিয়ার কাউন্সেলিং, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তা এবং স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজে স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নিতে পারেন।
শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবক, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ বিদ্যাঞ্জলির নাম করে চাকরির প্রস্তাব দিলে কিংবা চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চাইলে কোনওভাবেই সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বিষয়টি প্রশাসন বা পুলিশের নজরে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যাঞ্জলির সরকারি পোর্টালকেই নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষক সুনীল দাস বলেন, আমার স্কুলেও এক ব্যক্তি ফ্রড অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে এসেছিল। আমি তাকে যোগদান না করিয়ে প্রপার চ্যানেলের মাধ্যমে আসতে বলেছিলাম। পরে সে আর আসেনি। আমার যথেষ্ট সন্দেহ, বিদ্যাঞ্জলির সুযোগ নিয়ে একটি চক্র এই ধরনের প্রতারণা চালানোর চেষ্টা করছে।
জেলা শিক্ষা আধিকারিক সন্দীপ রায় বলেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্যই বিদ্যাঞ্জলি অ্যাপে প্রতারণা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সকলকেই সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মলয় মণ্ডল বলেন, কোনও স্কুলে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রধান শিক্ষকরা যেন অবিলম্বে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিদ্যাঞ্জলির নাম করে কোনও ধরনের প্রতারণা বরদাস্ত করা হবে না।
এদিকে শিক্ষক সংগঠন এবিএসআরএম-এর রাজ্য সভাপতি উজ্জ্বল কুমার তালুকদার বলেন, বিদ্যাঞ্জলি অ্যাপের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র এ ধরনের কাজ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকেও গোটা মালদা জেলায় বিষয়টির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিদ্যাঞ্জলির নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে দুর্নীতি বা প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করা হচ্ছে।
শিক্ষা দপ্তরের এই সতর্কবার্তার পর চাকরিপ্রার্থী ও অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যাঞ্জলির নাম করে কোনও ব্যক্তি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলে বা অর্থ দাবি করলে তার সত্যতা যাচাই না করে কোনও টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।