দীপঙ্কর দোলাই,নয়া জামানা:রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গেল গুন্ডাদমন আইন-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলন বা অন্য যে কোনও অজুহাতে সরকারি বা জনসম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে সামান্যতম রেয়াত করা হবে না।
সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে সিএএ সার্টিফিকেট প্রদান এবং অন্নপূর্ণা যোজনা সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি নতুন আইন প্রয়োগ নিয়ে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে ক্ষতিপূরণ বাবদ মূল পরিমাণের তিন গুণ অর্থ সুদে-আসলে আদায় করা হবে। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা হলেও দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।চলতি বছরের জুলাইয়ে বিধানসভায় দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬ পাস হয়, যা জনসাধারণের কাছে গুন্ডা দমন বিল নামে পরিচিত। শাসকদলের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়া এই বিলের লক্ষ্য সম্পূর্ণ গুন্ডামুক্ত বাংলা গড়া। সঙ্গে সংশোধিত হয় দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার বিল, ২০২৬। দুটি বিল একসঙ্গে পাস হওয়ায় পুলিশ-প্রশাসনের হাতে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মতো ব্যাপক ক্ষমতা এসেছে।পূর্বতন তৃণমূল আমলের হিংসাত্মক ঘটনার উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদে রেল স্টেশন, ট্রেন ও সরকারি বাসে আগুন ধরানো হয়েছিল, এলাকাগুলিকে মুক্তাঞ্চল বানানো হয়েছিল। হাওড়ার সাঁকরাইলেও সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের আত্মরক্ষায় টেবিলের নীচে লুকোতে দেখা গিয়েছিল বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।