নয়া জামানা : কোটি কোটি টাকা নগদ ও বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত পাথর ব্যবসায়ী টুলু ওরফে নিজাবুদ্দিন মণ্ডল এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। তবে তাঁর খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বেআইনি সম্পত্তির জাল গুটিয়ে আনতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এই সূত্র ধরেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন টুলুর ভাগ্নে শেখ ওয়াসিম।
শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পালানোর চেষ্টার সময় দার্জিলিংয়ের চকবাজার এলাকা থেকে সিউড়ির চুড়িপাড়ার বাসিন্দা ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার তাঁকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের একটি পুরনো বেআইনি পাথর খাদান মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি সৌকত হাতি।
উল্লেখ্য, এর আগে সিউড়িতে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ ও ১৫ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। মিনার বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। শনিবার তদন্তকারীরা ধৃত মিনারকে সঙ্গে নিয়ে ফের তাঁর বাড়িতে যান এবং বাড়ির কোন অংশে কীভাবে টাকা ও সোনা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তার বিস্তারিত নকশা ও স্কেচ তৈরি করেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, টুলুর অন্য আত্মীয়দের মাধ্যমেই বিপুল অর্থ পাচার করা হয়ে থাকতে পারে, আর সেই সূত্রেই ওয়াসিমের গ্রেফতারি।
টুলুর একের পর এক বেআইনি কর্মকাণ্ড সামনে আসতে থাকায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। শনিবার মহম্মদবাজার ও রামপুরহাট এলাকার মোট ৮টি অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের নোটিস জারি করা হয়। প্রশাসন সূত্রের খবর, মহম্মদবাজারের দেওয়ানগঞ্জ মৌজায় টুলুর আত্মীয় আপেল মোর্তাজা, মনোজ টুডু, শেখ করিবুল, সারতাজ মোল্লা, সুনীল সোরেন ও শুভ টুডুর খাদান বন্ধের নির্দেশ জারি হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদা মৌজায় তারক টুডু ও অনিল কিস্কু এবং হাটগাছা মৌজায় বুধন মারান্ডির খাদানেও অভিযান চালিয়ে বন্ধের নোটিস টাঙানো হয়েছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত মাসেও মহম্মদবাজারে ৯টি খাদানে একই ধরনের নোটিস দেওয়া হলেও তার মধ্যে কয়েকটিতে কাজ সচল ছিল।
বেআইনি পাথর ব্যবসার পাশাপাশি বছরখানেক আগে অনুষ্ঠিত টুলুর একমাত্র মেয়ে সালমার বিয়ের রাজকীয় খরচও এখন পুলিশের নজরে। ওই অনুষ্ঠানে টলিউড অভিনেতা আরবাজ খান, জারিন খান, প্রবীণ অভিনেতা আসরানি এবং গায়িকা মোনালি ঠাকুরসহ মুম্বই ও কলকাতার একাধিক তারকা উপস্থিত ছিলেন। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বারিক বিশ্বাসের ছেলের সঙ্গেই বিয়ে হয় সালমার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচার-কাণ্ডে আগেও নাম জড়িয়েছিল বারিকের। ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে সিবিআই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল, এর দু’বছর পর ২০২৩ সালের গোড়ায় রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত থাকলেও, এই হাই-প্রোফাইল বিয়ের বিপুল আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজর এড়াচ্ছে না।
গলব্লাডারে ৪০টির বেশি পাথর! অস্ত্রোপচারে বিরল সাফল্য তুফানগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসকদের