রঞ্জন সাহা, নয়া জামানা, ময়নাগুড়ি: ডুয়ার্সে কাঁচা চা-পাতা কেনা বন্ধের সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ময়নাগুড়িতে। সরকারি নির্দেশ ও যৌথ সিদ্ধান্ত অমান্য করে গোপনে কাঁচা চা-পাতা কেনাবেচার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাখালহাট এলাকায় বিক্ষোভে সামিল হন একাংশ ক্ষুদ্র চা চাষি ও চা-পাতার পাইকাররা।
বিক্ষোভকারীরা কাঁচা চা-পাতা বোঝাই কয়েকটি ছোট গাড়ি আটকে দেন। পরে গাড়ি থেকে পাতা নামিয়ে রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের অভিযোগ, অধিকাংশ বটলিফ ফ্যাক্টরি অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা চা-পাতা গ্রহণ বন্ধ রাখলেও কয়েকটি ফ্যাক্টরি ও কিছু পাইকার গোপনে সেই পাতা কিনছে। এর ফলে নিয়ম মেনে চলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।
খবর পেয়ে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিলেও হুঁশিয়ারি দেন, গোপন কেনাবেচা বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক বটলিফ ফ্যাক্টরির মালিক। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা চা-পাতা থেকে উৎপাদিত চা অনেক ক্রেতা নিতে অস্বীকার করায় বাধ্য হয়েই ফ্যাক্টরিগুলি কাঁচা পাতা কেনায় কড়াকড়ি করেছে। তবে ফ্যাক্টরিগুলিতে রাসায়নিক পরীক্ষার কোনও আধুনিক ব্যবস্থা নেই বলেও তিনি জানান। ভারতীয় টি বোর্ড পরীক্ষার যন্ত্র সরবরাহ করলে নির্ধারিত মূল্য দিয়ে তা কিনতে তাঁরা আগ্রহী বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি গোপনে কাঁচা চা-পাতা কেনাবেচার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেই মন্তব্য করেন তিনি।