রাকেশ লাহা, নয়া জামানা, অন্ডাল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের খান্দরা পঞ্চায়েতের নীলকণ্ঠতলা সংলগ্ন ধোবাপাড়া এলাকায় ফের দেখা দিয়েছে মারাত্মক খনি ধস। ইসিএলের বাঁকোলা এরিয়ার বিশ্বেশ্বরী কোলিয়ারির মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত এই জনবসতিতে গত মঙ্গলবার আচমকাই শুরু হয় তীব্র কম্পন। একের পর এক বাড়িতে দেখা দেয় গভীর ফাটল। আতঙ্কে শতাধিক পরিবার বাড়িঘর, আসবাবপত্র ও জরুরি নথিপত্র ফেলে রেখেই খোলা মাঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় অধিবাসীদের বক্তব্য, ভূগর্ভস্থ কম্পনের সঙ্গেই হুড়মুড়িয়ে মেঝেও দেওয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করে। প্রাণভয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন শিশু, বৃদ্ধ সহ সমস্ত বাসিন্দা। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই অন্ডাল থানার উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ এলাকায় পৌঁছায় এবং অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে অধিবাসীদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বর্তমানে গৃহহীন পরিবারগুলি খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ীভাবে দিন কাটাচ্ছেন, যা এই বর্ষার মরসুমে তাঁদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, এই এলাকায় মাটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা দীর্ঘদিনের। বছর কয়েক আগে পাশের জামবাদ খনি এলাকায় ধসের কারণে বহু বাড়ি মাটির তলায় তলিয়ে গিয়েছিল এবং এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই সময় প্রশাসনের তরফে ধস রোধে এবং নিরাপদ পুনর্বাসনের একাধিক আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কিছুই রূপায়িত হয়নি। স্থানীয়দের মতে, বিশ্বেশ্বরী কোলিয়ারির ভূগর্ভ থেকে লাগাতার কয়লা উত্তোলনের ফলেই মাটির নিচে ফাঁপা স্তর তৈরি হয়েছে, যার পরিণতিতে আজকের এই বিপর্যয়। যদিও এই বিষয়ে ইসিএল বা কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী পুনর্বাসন বা ত্রাণ সাহায্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। প্রকৃতির দুর্যোগ ও খনি বিপর্যয়ের জোড়া ফলায় দিশেহারা অধিবাসীরা এখন দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও ত্রাণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। একই সাথে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এই ধসের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের দাবিও তুলেছেন তাঁরা।