অভিজিত চক্রবর্তী, নয়া জামানা, আলিপুরদুয়ার: প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষার মরসুমে বন্যপ্রাণীদের প্রজনন এবং স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে টানা তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। গত ১৫ই জুন থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জারি থাকবে। জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা এবং বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২-এর ধারা মেনেই এই বার্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই সময়কালে বক্সা অরণ্যের ভেতরে পর্যটকদের প্রবেশ এবং সমস্ত ধরনের জঙ্গল সাফারি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে কেবল পর্যটন বন্ধ রাখাই নয়, বর্ষার এই বিশেষ মরসুমে বনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং বন্যপ্রাণীদের চোরাশিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে বন দপ্তরের তরফ থেকে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ ও বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার সময় পাহাড়ি নদীগুলোর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ নিয়ে বক্সার জঙ্গল থেকে নদীপথে কাঠ পাচারের একটি প্রবণতা তৈরি হয়। এই অবৈধ পাচার রুখতে পোরো, রায়ডাক, বালা, সংকোষ, নোনাই, কালকূট ও ডিমা সহ বিভিন্ন প্রধান নদীগুলোতে বিশেষ ‘রিভার ক্যাম্প’ বা নদী শিবিরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা এই ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে নদীপথে কড়া নজরদারি চালানো হবে। এর পাশাপাশি, বর্ষার মরসুমে নদী থেকে কোনো রকম পাথর, বোল্ডার বা নদীগর্ভের অন্য কোনো সামগ্রী তোলার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
একই সাথে, এই তিন মাস বনের প্রতিটি বিট ধরে ধরে বিশেষ পেট্রোলিং বা টহলদারি চালানো হবে, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘জঙ্গল স্ক্যানিং’। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে এই সময়ে নতুন করে কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হবে না। বনের সীমান্তবর্তী ও হাতির উপদ্রবপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষার্থে নিয়মিত সতর্কবার্তা প্রচার করা হবে। বন দপ্তরের আধিকারিকদের আশা, এই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বর্ষার মরসুমে বক্সা অরণ্যের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে এবং মানুষের অলক্ষ্যে প্রকৃতির বুকেই নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠবে বনের নতুন সদস্যরা।
আরও পড়ুন:
বর্ষার আগাম আগমন, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে বজায় থাকবে গরম