দীপঙ্কর দোলাই ,নয়া জামানা : বিজেপি সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশনেই ভোট-পরবর্তী হিংসার ইস্যুতে সরব তৃণমূল।এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বহু তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন এবং রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, প্রকৃতপক্ষে কেউ ঘরছাড়া হয়ে থাকলে তাঁদের সসম্মানে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে, তবে আইনগত অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন বিধানসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্র বসু। এরপর অধিবেশন শুরু হলে প্রথমে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নতুন স্পিকারকে অভিনন্দন জানান এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করে বিধানসভা পরিচালনার বার্তা দেন। অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব হলেও বর্তমানে সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। বিজেপি বলেছিল ভয় নয়, ভরসা আসবে। কিন্তু বাস্তবে মানুষের ভয় আরও বেড়েছে। একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, যাতে ঘরছাড়া মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।
বক্তৃতার সময় বিজেপি বিধায়কদের তরফে হইচই শুরু হলেও মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁদের শান্ত হতে বলেন। তিনি জানান, সংবিধান বাক্স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে এবং বিরোধীদের বক্তব্য শোনা হবে। পরে জবাবি বক্তৃতায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঘরছাড়া কেউ আছে বলে আমার জানা নেই। তবে যদি বিরোধী দল তালিকা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ না থাকে, তাহলে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসন তাঁকে সসম্মানে বাড়ি ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু অভিযোগে নাম থাকলে আইন আইনের পথেই চলবে।
আগামী ১৮ জুন বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সকাল সাড়ে ১১টায় বিধানসভায় ভাষণ দেবেন রাজ্যপাল আর এন রবি।