বাবলু রহমান, নয়া জামানা,জলপাইগুড়ি : উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে জলপাইগুড়ির তিস্তা সেতু সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ মক ড্রিল ও কোঅর্ডিনেশন মিটিং করল বিএসএফ। বর্ষা শুরুর আগেই বিপর্যয় মোকাবিলা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এই যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়।

এদিনের কর্মসূচিতে বিএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, দমকল বিভাগ, স্বাস্থ্য দপ্তর, সিভিল ডিফেন্স, সেচ দপ্তর, শিক্ষা দপ্তর-সহ একাধিক সরকারি বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিপর্যয় মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই এই মহড়া পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
তিস্তা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা, বড়সড় দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো হবে, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তারই বাস্তব অনুশীলন করা হয় এই মক ড্রিলে। আগুন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বলয় তৈরি এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় বজায় রাখার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছরই বিএসএফ, এসএসবি-সহ বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনী ও সেনাবাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন আপৎকালীন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে এই ধরনের মহড়া করে থাকে। পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, সিভিল ডিফেন্স, সেচ দপ্তর-সহ বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাই করা হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে। এ বছরও বর্ষা শুরুর মুখে তিস্তা সেতু এলাকায় সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই বিশেষ মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই মহড়াকে ঘিরে যথেষ্ট কৌতূহল দেখা যায়। প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতে যেকোনও বড় বিপর্যয় বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এই ধরনের সমন্বিত মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।