নয়া জামানা, মালদহ: শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা—সমাজ গঠনের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য রাজ্য সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা গৌরব সম্মান-২০২৬’ পেলেন মালদার কাদিরপুর কিরণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তনয় কুমার মিশ্র। কলকাতার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টার হলে শিক্ষক দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে উত্তরীয়, মানপত্র, স্মারক ও ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মলয় মণ্ডল ও শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা তাঁর এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতারই উপযুক্ত স্বীকৃতি এই পুরস্কার। সম্মান পাওয়ার পর তনয় বাবু এক অনন্য ও মানবিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। পুরস্কারের সম্পূর্ণ ২৫ হাজার টাকা তিনি গঙ্গা ভাঙনকবলিত এলাকার দুস্থ ও মেধাবী শিশুদের শিক্ষার খরচে ব্যয় করবেন। ভাঙন এলাকার বেছে নেওয়া পাঁচটি শিশুর শিক্ষাসামগ্রী ও পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মোথাবাড়ির গোসাইহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মজীবন শুরু করার পর ২০১৫ সালে কাদিরপুর কিরণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে বিদ্যালয়ে ‘মায়ের আঁচল’, ‘মাতৃ বাহিনী’ ও ‘ব্যাকবেঞ্চার ডিজিটাল ক্লাসরুম’-এর মতো আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষাপদ্ধতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে ২৬০ জন ছাত্রছাত্রী সমৃদ্ধ এই বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নেমে এসেছে এবং গড়ে ৯০ শতাংশ উপস্থিতি বজায় থাকছে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতাতেও যুক্ত ছিলেন তনয় মিশ্র। ‘উত্তরবঙ্গ সংবাদ’ ও ‘বর্তমান’-এর মতো সংবাদের পাতায় কাজ করার সময় মালদার গঙ্গা ভাঙন নিয়ে তাঁর ৫৮ কিস্তির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে আইআইটি খড়্গপুরের জার্নালেও প্রকাশিত হয়। এক হাতে চক-ডাস্টার আর অন্য হাতে কলম নিয়ে তাঁর এই নিরলস লড়াই এবং মানবসেবার প্রচেষ্টা আজ সমগ্র মালদা জেলার শিক্ষা ও সমাজ সচেতনতায় এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
নববর্ষে নারী শক্তির শোভাযাত্রা, গাজোলে তৃণমূলের অনন্য বার্তা