নয়া জামানা ডেস্ক : ভবানীপুরের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ফের দাপট দেখাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক টানাপড়েন সরিয়ে চতুর্থ রাউন্ডের শেষে আট হাজারেরও বেশি ভোটে লিড নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। গণনার শুরু থেকেই কার্যত স্নায়ুর লড়াই চলছিল হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে। পোস্টাল ব্যালটে মমতা এগিয়ে থাকলেও পরে ১৫৫৮ ভোটে লিড নিয়ে চমকে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে সময় গড়াতেই ফের পাশা উল্টে যায়। তৃতীয় রাউন্ডে ব্যবধান ৮০০ থাকলেও চতুর্থ রাউন্ডে তা একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছেন মমতা। আপাতত তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১৭,২৪৪ এবং শুভেন্দুর ঝুলিতে গিয়েছে ৮,৭৬২ ভোট।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্র ছেড়ে নিজাম প্যালেসের দফতরে ফিরে গিয়েছেন শুভেন্দু। এই ফলাফল নিয়ে তাঁর সাফ কথা, ‘অল্প ইভিএম গোনা হয়েছে। এটাকে বড় কিছু করে দেখানো ঠিক না। প্রাথমিক ভাবে আমার যে পর্যবেক্ষণ, হিন্দু ইভিএম বিজেপির, মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের। তবে তা-ও আগের মতো নয়। ২০২১ এবং ২০২৪-এর মতো ভোট একত্রিত করতে পারেননি। মালদহে, মুর্শিদাবাদের বহু সিটে, উত্তর দিনাজপুরেও করণদিঘি বা অন্য জায়গায় প্রাথমিক ভাবে মুসলিম বেল্টে কংগ্রেস কোনও কোনও ইভিএমে ভাল ভোট পেয়েছে।’
নন্দীগ্রামের সাফল্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতা। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম রাউন্ডেই ৩০০০ লিড পেয়েছেন। শুভেন্দুর দাবি, ‘সরকার বিজেপি গড়ছে, এটা ধরে নিয়ে চলুন। আমার আশা ছিল ১১০০ পাব। তিন গুণ বেশি পেয়েছি। ভবানীপুরে টক্কর হবে। প্রথম রাউন্ডে ১৪টি বুথ মুসলিমপ্রবণ। আটটি হিন্দু বুথে আমার লিড আছে। ভবানীপুরে ৯-১০ রাউন্ড থেকে দেখবেন, আমি অনেক এগিয়ে যাব। ১০ রাউন্ডের পর আমাকে হারানো মুশকিল হয়ে যাবে।’ শুভেন্দুর দাবি, হিন্দু ভোটাররা পদ্ম শিবিরের পক্ষেই রয়েছেন যা তাঁদের জন্য বড় ইঙ্গিত। এখন দেখার, ১০ রাউন্ডের পর লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়।
“আমার নাম আছে, তবুও কেন ভোট দিতে পারব না?” ৯ জনের আক্ষেপের সাক্ষী থাকলো পোলিং স্টেশন