নয়া জামানা , দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটগণনা শুরু হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। প্রাথমিক ট্রেন্ড সামনে আসতেই কোথাও হাসি, কোথাও উদ্বেগ—এমনই চিত্র ধরা পড়ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে। একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়েছে, আর তারই মাঝে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রাপ্ত প্রথম দফার তথ্য অনুযায়ী, সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলী এগিয়ে রয়েছেন। তবে সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ফেরদৌসী বেগম শুরু থেকেই লিড ধরে রেখেছেন। ফলে একই এলাকার দুই কেন্দ্রে দুই ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
কাকদ্বীপ কেন্দ্রেও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা এগিয়ে থেকে দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করছেন। অন্যদিকে ভাঙড় কেন্দ্রের লড়াই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখানে আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে, যা এই কেন্দ্রকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।
গোসাবা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও বাসন্তী, বারুইপুর পূর্ব এবং বারুইপুর পশ্চিম—এই তিনটি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রাধান্য বজায় রেখেছে। রায়দিঘি কেন্দ্রে বিজেপির পলাশ রানা লিডে থাকলেও মন্দিরবাজারে তৃণমূল প্রার্থী জয়দেব হালদার এগিয়ে রয়েছেন।
এছাড়াও মগরাহাট পশ্চিমে তৃণমূলের শামীম আহমেদ এবং মগরাহাট পূর্বে শর্মিষ্ঠা পুর্কায়েত নিজেদের অবস্থান মজবুত করে এগিয়ে রয়েছেন। সাতগাছিয়া কেন্দ্রে বিজেপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বিষ্ণুপুর, ক্যানিং পূর্ব ও পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবার—এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও বিজেপি একাধিক জায়গায় কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। পাশাপাশি কিছু কেন্দ্রে আইএসএফ-এর উপস্থিতিও লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে এই ট্রেন্ড যে আরও বদলাতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। তবে শুরুতেই যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই লড়াই শেষ পর্যন্ত জমজমাট হতে চলেছে।