নয়া জামানা ডেস্ক : দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে জট কাটল। বাংলার ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাক্ষাতের সময় দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগামী সোমবার অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টেয় দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মমতা। সঙ্গে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সাংসদ মিলিয়ে মোট ১৫ জনের এক প্রতিনিধিদল। সূত্রের খবর, কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ বলে দেগে দেওয়া বেশ কিছু রক্তমাংসের মানুষকেও সঙ্গে করে দিল্লি নিয়ে যাচ্ছেন মমতা।
কমিশনের এই গ্রিন সিগন্যাল আসার দিনটি ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে বুধবার তাঁর পূর্বনির্ধারিত দিল্লি সফর স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু সিঙ্গুরের সভা থেকে এদিনও চড়া সুরে বিজেপি ও কমিশনকে বিঁধতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। মমতা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজ নয়, কাল দিল্লি যাবই। আপনারা মানুষের অধিকার কাড়বেন। হতে দেব না। দরকারে আমি কোর্টে যাব।’ তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘লুঠেরাদের পার্টি, ঝুটেরাদের পার্টি। ছেড়ে দেব না। চলবে না অন্যায়। অপেক্ষা কর।’
রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, পরিকল্পনা ছাড়াই ভোটের মুখে এই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার ‘আতঙ্কে’ রাজ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি তৃণমূলের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেও ইতিপূর্বে কোনও উত্তর পাননি। এই প্রেক্ষাপটে সোমবারের বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল সূত্রে খবর, দিল্লিতে নিছক স্মারকলিপি জমা দেওয়াই উদ্দেশ্য নয়, বরং জাতীয় স্তরে এসআইআর-এর ত্রুটিগুলি তুলে ধরে বড়সড় শোরগোল ফেলতে চাইছে তারা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বেই বিভিন্ন সভায় ‘মৃত’ ভোটারদের মঞ্চে হাজির করে কমিশনের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন। সোমবারের প্রতিনিধিদলে সেই ‘মৃত’ ব্যক্তিদের পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের সদস্যদেরও রাখা হতে পারে। সিঙ্গুরে মমতা অভিযোগ করেন, বেছে বেছে সংখ্যালঘু এবং বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এক বিধায়ক বলছিল, মুসলিম বলে ডেকে পাঠিয়েছে। শশীকে ডেকেছে। জয় গোস্বামীকে ডেকেছে।’ সোমবার দুপুরে দিল্লি পৌঁছেই বিকেল ৪টেয় মমতার এই হাইভোল্টেজ বৈঠক ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতির নজর।