নয়া জামানা,মালদহ:রতুয়া-১ নম্বর ব্লকে কোটি কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল।সাহানগর কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেড নামে একটি মিনি ব্যাঙ্ক থেকে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল তৃণমূল পরিচালিত বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্মৃতিকণা মণ্ডল ও তাঁর স্বামী অনিল কুমার মণ্ডলকে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রতুয়া থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।শুক্রবার আদালতে তোলার সময় ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা থানার সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ধৃতদের লক্ষ্য করে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,দীর্ঘদিন ধরে ওই সমবায় সমিতির ম্যানেজার ছিলেন অনিল কুমার মণ্ডল।পরে তিনি নিজের ছেলে অমিত কুমার মণ্ডলকে ওই পদে বসান।প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে অমিত ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ভাইপো প্রণব কুমার মণ্ডল।এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ও সাধারণ মানুষ নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা ওই মিনি ব্যাঙ্কে জমা রাখতেন।অভিযোগ,প্রায় এক বছর আগে হঠাৎ করেই ব্যাঙ্কে তালা ঝুলে যায়।উধাও হয়ে যায় সমিতির সাইনবোর্ডও। তারপর থেকেই নিখোঁজ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার। আমানতকারীদের দাবি, প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা।এই ঘটনায় বিলাইমারি এলাকার বাসিন্দা হৃদয় মণ্ডল গত ১৪ মে রতুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। যদিও এখনও পলাতক রয়েছেন অমিত কুমার মণ্ডল, প্রণব কুমার মণ্ডল ও প্রণবের স্ত্রী। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে, নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আমানতকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেই বিপুল সম্পত্তি গড়েছেন অভিযুক্তরা। তবে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত স্মৃতিকণা মণ্ডল।