রূম্পা দাস,নয়া জামানা,বীরভূম:শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়াল ছেড়ে এবার পড়ুয়াদের পাঠশালা বসল ধানের ক্ষেতে। ব্ল্যাকবোর্ডের বদলে কাদামাখা জমি, খাতা-কলমের বদলে হাতে ধানের চারা আর সেই দৃশ্যই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। বীরভূমের লাভপুরের কালিকাপুর ডাঙার গুরুকুল আদর্শ বিদ্যাপীঠ ও গুরুকুল নাট্য আশ্রমের ব্যতিক্রমী ‘আনন্দ চাষ’কর্মসূচি ইতিমধ্যেই সকলের নজর কেড়েছে।

কৃষিকে শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবের মাটিতে পরিচয় করিয়ে দিতে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির শুরুতে সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়ারা কৃষকের জীবনসংগ্রাম, অন্নের মর্যাদা এবং মাটির প্রতি ভালোবাসার বার্তা নিয়ে একটি হৃদয়স্পর্শী নাটক মঞ্চস্থ করে। এরপর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাদামাখা ধানের ক্ষেতে নেমে পড়ে চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা। নিজের হাতে ধানের চারা রোপণ করে তারা যেন শিখে নিল জীবনের এক অমূল্য পাঠ।আয়োজকদের দাবি,এই জমিতে উৎপাদিত ধান দিয়েই প্রতিবছর নবান্ন উৎসব পালন করা হয়। তাই নতুন প্রজন্মের মনে কৃষির প্রতি শ্রদ্ধা, পরিশ্রমের মূল্য এবং খাদ্যের গুরুত্ব গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। তাদের মতে, শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা বইয়ের পাতার বাইরে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
কাদামাখা সেই মুহূর্তে মুখে ছিল হাসি হাতে ছিল ধানের চারা আর মনে ছিল নতুন এক স্বপ্ন।মাটির গন্ধে ভর করে যেন পড়ুয়ারা আবিষ্কার করল শিক্ষার অন্য এক দিগন্ত।
একটি দৃশ্য যেন হাজার কথার সমান যে হাতে আজ বই, সেই হাতেই একদিন গড়ে উঠবে দেশের অন্নভাণ্ডার।আর সেই কারণেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়োচ্ছে।