নয়া জামানা,কলকাতা:পড়ুয়াশূন্য ৯৩৩টি প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর। মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি জানান স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তাঁর কথায়, এই স্কুলগুলিতে বিগত পাঁচ থেকে কুড়ি বছর ধরে কোনও পড়ুয়া ভর্তি হয়নি, ফলে সেগুলি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল।মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন পড়ুয়াহীন থাকা এই স্কুলগুলির জমি, বিল্ডিং ও মাঠের মতো সম্পত্তি অনেক ক্ষেত্রেই অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সম্পত্তি ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারের কাছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনে আন্তঃবিভাগীয় আদানপ্রদানের মাধ্যমে এই সম্পত্তি সরকারের হাতে হস্তান্তরের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।দীপক বর্মনের দাবি, পূর্বতন তৃণমূল আমলেই রাজ্যের প্রায় আট হাজার স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা পঞ্চাশের নীচে নেমে গিয়েছিল, যার জেরে এই সমস্যার সূত্রপাত।এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যরাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ পাল্টা দাবি করেছেন, সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমে যাওয়া নতুন কোনও সমস্যা নয়, বরং কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রবণতা। তাঁর যুক্তি, বাম আমলে ইংরেজি ও কম্পিউটার শিক্ষা তুলে দেওয়ার জেরেই অভিভাবকেরা ক্রমশ বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন, যার প্রভাব আজও সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় স্পষ্ট।রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষামহলেও চলছে চাপানউতোর। প্রশ্ন উঠেছে, স্কুল বন্ধ করে দেওয়াই কি সমাধান, নাকি প্রয়োজন পরিকাঠামো ও পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।