[pj-news-ticker]

সাফল্যের নিশান ওড়াচ্ছে কচিকাচা ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন

আলিকুল ইসলাম সম্পাদক   মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:মালদা জেলার কালিয়াচকের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রাম। এক দশক আগেও যেখানে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটানো ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ আজ সেখানেই ফুটে উঠেছে শিক্ষার নতুন আলো।এই পরিবর্তনের মূল কারিগর ‘কচিকাচা ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন’।২০১৪....

সাফল্যের নিশান ওড়াচ্ছে কচিকাচা ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন

আলিকুল ইসলাম সম্পাদক   মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:মালদা জেলার কালিয়াচকের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রাম। এক দশক আগেও যেখানে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


আলিকুল ইসলাম

সম্পাদক

 

মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:মালদা জেলার কালিয়াচকের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রাম। এক দশক আগেও যেখানে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটানো ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ আজ সেখানেই ফুটে উঠেছে শিক্ষার নতুন আলো।এই পরিবর্তনের মূল কারিগর ‘কচিকাচা ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন’।২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ আর কেবল চারটি দেয়ালের একটি বিদ্যালয় নয়, এটি হয়ে উঠেছে সমগ্র এলাকার শিশুদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর।

​এক টুকরো স্বপ্ন ও কঠিন লড়াইয়ের সূচনা

একটি মহৎ স্বপ্নের পেছনে থাকে কয়েকজন স্বপ্নদ্রষ্টার নিরলস প্রচেষ্টা।২০১৪ সালে মাত্র ১৭ জন ছোট্ট শিক্ষার্থী ও ৩ জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আলিকুল ইসলাম,মো. নাজমুল হক,আব্দুর রহমান খান,হায়দার আলী ও মোসাম্মদ ফুলসারা খাতুনের হাত ধরে যে ক্ষুদ্র চারাগাছটি রোপিত হয়েছিল তা আজ ডালপালা মেলে এক বিশালাকার মহীরুহে পরিণত হয়েছে।


​শতাধিক অভিভাবকের ভরসা ও আধুনিক পরিকাঠামো

এক দশকের ব্যবধানে এই স্কুলের রূপান্তর যেকোনো শিক্ষাবিদকে অবাক করবে। সূচনার সেই ১৭ জন থেকে শিক্ষার্থী সংখ্যা আজ ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে!শিক্ষার্থীদের নিবিড় যত্ন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বর্তমানে নিয়োজিত রয়েছেন ৩৮ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ২ জন সহায়ক কর্মী। নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠন-পাঠনের পাশাপাশি সুদূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৫০ আসনের নিরাপদ আবাসিক ব্যবস্থা।এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য যুক্ত করা হয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।


​দ্বীনি ও দুনিয়াবি শিক্ষার এক অপূর্ব মেলবন্ধন

এই বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে নৈতিক ও দ্বীনি শিক্ষার চমৎকার সামঞ্জস্য। প্রধান শিক্ষক মো.নাজমুল হকের যোগ্য নেতৃত্বে এখানকার পাঠদান পদ্ধতি অত্যন্ত শিশুবান্ধব ও কার্যকর। শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৎ, নম্র ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক লক্ষ্য।


​রাজ্যস্তরে সাফল্যের জয়জয়কার

এখানকার শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে।রাজ্যস্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও বৃত্তি পরীক্ষায় কচিকাচার ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মেধার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখছে।প্রতি বছর মর্যাদাপূর্ণ ‘আল-আমিন মিশন’-এর ভর্তি পরীক্ষায় এখানকার শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছে,১৪ জন শিক্ষার্থী এতে সুযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে এনেছে।এছাড়াও বিজ্ঞান মঞ্চের মেধা অন্বেষণ পরীক্ষায় প্রতি বছরই এখানকার শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। নাসিরুদ্দিন ইসলাম, মাহির তানজির,জাইরিন তাসনিন, মাহবুব ও ফারহান আলীর মতো মেধা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা চমৎকার ফলাফল করে অঞ্চলজুড়ে নজর কেড়েছে।


​প্রযুক্তির হাত ধরে আগামীর প্রস্তুতি

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক শিক্ষায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পিছপা নয় এই প্রতিষ্ঠান।শিক্ষার্থীদের গাণিতিক মেধা ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির জন্য দ্রুতই যুক্ত হতে চলেছে আধুনিক ‘অ্যাবাকাস’ শিক্ষা।পাশাপাশি ডিজিটাল যুগে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করতে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘স্মার্ট ক্লাস’ ব্যবস্থা।


​একটি সোনালী আগামীর প্রত্যয়

গ্রামের মেধা যেন সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে হারিয়ে না যায়,সেই ব্রত নিয়েই এগিয়ে চলেছে কচিকাচা ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন।শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটি আজ এক সফলতার উদাহরণ।আগামী দিনে এখান থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরাই সমাজ ও দেশের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে-এমনটাই বিশ্বাস কালিয়াচকবাসীর


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর