ব্রেকিং
[pj-news-ticker]

কংগ্রেসের শূন্য,বিজেপির বাজিমাত

রাজনীতির ময়দানে মুখের জোরে শোরগোল তোলা যায়, সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করা যায়,রাজপথে স্লোগানের ঝড়ও তোলা যায়। কিন্তু ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে ভোটারের রায়কে প্রভাবিত করতে হলে চাই বিশ্বাসযোগ্যতা,সংগঠনের শক্তি এবং মানুষের আস্থা।চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের শূন্য হাতে ফেরা....

কংগ্রেসের শূন্য,বিজেপির বাজিমাত

রাজনীতির ময়দানে মুখের জোরে শোরগোল তোলা যায়, সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করা যায়,রাজপথে স্লোগানের ঝড়ও তোলা যায়।....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


রাজনীতির ময়দানে মুখের জোরে শোরগোল তোলা যায়, সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করা যায়,রাজপথে স্লোগানের ঝড়ও তোলা যায়। কিন্তু ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে ভোটারের রায়কে প্রভাবিত করতে হলে চাই বিশ্বাসযোগ্যতা,সংগঠনের শক্তি এবং মানুষের আস্থা।চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের শূন্য হাতে ফেরা সেই নির্মম সত্যকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।ভোটচুরির অভিযোগে সরব কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রচার কি ভোটারদের মন জয় করতে পারছে? নাকি অভিযোগের আওয়াজ যত বাড়ছে,জনসমর্থনের ভিত ততই নড়বড়ে হয়ে পড়ছে? সাম্প্রতিক ফলাফল সেই প্রশ্নকেই আরও তীক্ষ্ণ করে তুলেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে কর্নাটক থেকে। যে রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার সেই রাজ্যেই বিধান পরিষদের চারটি আসনে এনডিএর জয় দলটির রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসে বড়সড় আঘাত। ক্ষমতায় থাকা মানেই মানুষের সমর্থন নিশ্চিত রাজনীতির এই চিরাচরিত ভুল ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে নির্বাচনী ফল।বিশেষ করে বেঙ্গালুরু টিচার্স কেন্দ্রের হার কংগ্রেসের কাছে নিছক একটি আসন হারানো নয় বরং রাজনৈতিক মর্যাদার প্রশ্ন। পাঁচবারের জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী পুট্টান্নাকে হারিয়ে জেডি(এস)-এর এ পি রঙ্গনাথের জয় বুঝিয়ে দিয়েছে, অতীতের সাফল্যের স্মারক দেখিয়ে বর্তমানের ভোট আদায় করা যায় না।রঙ্গনাথ পেয়েছেন ১০ হাজার ৮১০টি ভোট, পুট্টান্নার ঝুলিতে এসেছে ৯ হাজার ৯০২টি।ব্যবধান খুব বিশাল নয় কিন্তু রাজনৈতিক বার্তাটি যথেষ্ট জোরালো কংগ্রেসের দুর্গেও ফাটল ধরাতে সক্ষম এনডিএজোট।

এখানেই কংগ্রেসের আত্মসমীক্ষা জরুরি। ভোটচুরির অভিযোগ তোলা সহজ কিন্তু ভোটারের আস্থা অর্জন কঠিন।নির্বাচনে পরাজিত হলেই যদি অভিযোগের ঝুলি খুলে বসতে হয় তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা কোথায়?গণতন্ত্রে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। কিন্তু প্রতিটি প্রতিকূল ফলের ব্যাখ্যা যদি অভিযোগের আড়ালে খোঁজা হয় তাহলে নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা, দুর্বল প্রার্থী নির্বাচন কিংবা জনসংযোগের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা চাপা পড়ে যায়। কংগ্রেসের বিপদ সেখানেই। বিরোধিতার রাজনীতি করতে গিয়ে যদি বিকল্প নীতি, বাস্তব কর্মসূচি এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান পিছনের সারিতে চলে যায় তবে স্লোগান যতই উচ্চকিত হোক,ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, বিজেপি ও তার জোটসঙ্গীদের এই সাফল্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে কংগ্রেসশাসিত কর্নাটকে এনডিএর জয় দেখিয়ে দিয়েছে বিরোধী শিবিরকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। বিজেপির কাছে এই ফল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর রসদ জোগাবে। তবে এই জয়কে কেবল কংগ্রেসের ব্যর্থতার ফসল বলে দেখাও ভুল হবে।ভোটারের সমর্থন পেতে হলে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি, জোটের সমন্বয় এবং স্থানীয় স্তরে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। জয়কে রাজনৈতিক পুঁজি করতে হলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে।
উত্তরপ্রদেশের ছবিও কংগ্রেসের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।সেখানে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও কংগ্রেসের উপস্থিতি যে কতটা দুর্বল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর শিক্ষক আসনে বিজেপির পরাজয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কোনও কেন্দ্রই চিরস্থায়ী রাজনৈতিক সম্পত্তি নয়। ভোটাররা কাউকে স্থায়ীভাবে ক্ষমতার শংসাপত্র দিয়ে রাখেন না।তাঁরা প্রয়োজনমতো সমর্থন দেন আবার অসন্তুষ্ট হলে সেই সমর্থন ফিরিয়েও নেন। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের কাছেও এই বার্তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

বিহারে জন সুরাজ পার্টির সাফল্য এবং মহারাষ্ট্রে শরদ পওয়ারের দলের আসন জয় আরও একটি বাস্তবতা সামনে আনে রাজনীতিতে জায়গা ফাঁকা থাকলে নতুন শক্তি সেখানে প্রবেশের সুযোগ পায়। কংগ্রেস যদি নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারে তবে বিরোধী রাজনীতির পরিসরেও অন্য দলগুলি সেই জায়গা দখল করতে পারে।জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেই বর্তমানের প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত হয় না। ইতিহাসের গৌরব দিয়ে ভবিষ্যতের ভোট জেতা যায় না তার জন্য প্রয়োজন বর্তমানের বিশ্বাসযোগ্যতা।
তবে এই ফলকে গোটা দেশের জনমতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে তুলে ধরা যেমন ঠিক নয়, তেমনই কংগ্রেসের পরাজয়ের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। বিধান পরিষদের শিক্ষক ও স্নাতক কেন্দ্রগুলির নির্বাচনী চরিত্র সাধারণ বিধানসভা বা লোকসভা ভোটের থেকে আলাদা। স্থানীয় প্রার্থী, নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠী এবং আঞ্চলিক সমীকরণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই ফল থেকে জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যাবে না। কিন্তু কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়,এই নির্বাচন ব্যালট পেপারে হয়েছে বলে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ দিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করার সুযোগ এখানে নেই।তবে তার অর্থ এই নয় যে, অন্য কোনও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে গেল।প্রতিটি অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ ও নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে।কিন্তু নির্বাচনী পরাজয়ের পর বারবার অভিযোগের আশ্রয় নেওয়ার বদলে জনসমর্থন হারানোর কারণ খুঁজে বের করাই যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রথম দায়িত্ব।
কংগ্রেসের সামনে এখন দুটি পথ-অভিযোগের রাজনীতিতে আত্মতুষ্ট থাকা অথবা বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেদের ঘর গোছানো। প্রথম পথ সহজ দ্বিতীয় পথ কঠিন। কিন্তু গণতন্ত্রে টিকে থাকতে হলে কঠিন পথই বেছে নিতে হয়। অন্যদিকে, বিজেপির কাছেও এই জয় কোনও চূড়ান্ত বিজয়পত্র নয় বরং আরও বড় দায়িত্বের সূচনা।কারণ ভোটাররা শুধু বিরোধীদের প্রত্যাখ্যান করেন না তাঁরা বিজয়ীদেরও নিয়মিত যাচাই করেন।
রাজনীতিতে মাইক যত জোরে বাজে, ভোটারের রায় তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। অভিযোগের আওয়াজে সাময়িক উত্তাপ তৈরি হতে পারে কিন্তু ব্যালটের রায়ই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক শক্তির আসল পরিচয় দেয়।চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচন কংগ্রেসকে সেই আয়নাই দেখাল।এখন দেখার,দলটি সেই আয়নায় নিজেদের দুর্বলতা দেখতে প্রস্তুত কি না।


পুরনো অভিযোগের ফাইল ফের খুলছে? ঋতব্রতকে নিয়ে কুণালের চিঠিতে কেন্দ্রের নির্দেশ

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর