[pj-news-ticker]

মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ‘শোভা মহিলা মঙ্গল সমিতি’

মানস দাস, নয়া জামানা,মালদা   “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”- এই মহাবাণীটিকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে মালদার মাটিতে নিঃশব্দে এক বিশাল মানবকল্যাণের বিপ্লব ঘটে চলেছে।মানুষের সেবাকেই জীবনের একমাত্র পরম আনন্দ ও লক্ষ্য বলে মনে করেন....

মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ‘শোভা মহিলা মঙ্গল সমিতি’

মানস দাস, নয়া জামানা,মালদা   “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”- এই মহাবাণীটিকে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


মানস দাস,

নয়া জামানা,মালদা

 

“জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”- এই মহাবাণীটিকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে মালদার মাটিতে নিঃশব্দে এক বিশাল মানবকল্যাণের বিপ্লব ঘটে চলেছে।মানুষের সেবাকেই জীবনের একমাত্র পরম আনন্দ ও লক্ষ্য বলে মনে করেন সমাজকর্মী রাজেশ মহলদার। তাঁরই ঐকান্তিক উদ্যোগে এবং স্বপ্নদর্শী ভাবনায় ২০১৯ সালে মালদার কালিয়াচকের বালিয়াডাঙ্গায় জন্ম নেয় ‘শোভা মহিলা মঙ্গল সমিতি’।আজ সেই ছোট্ট চারাগাছটি একটি সুবিশাল বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে, যার স্নিগ্ধ ছায়ায় আশ্রয় পাচ্ছে হাজার হাজার দুঃখী,বঞ্চিত ও পিছিয়ে থাকা মানুষ।


ছোট্ট শুরু থেকে বিশাল ব্যাপ্তি

২০১৯ সালে বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই সংগঠনের পথচলা আজ আর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।মালদা জেলা ছাড়িয়ে এই সেবামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের চারটি রাজ্যে-পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড।বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাঁদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই সমিতি এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।বর্তমানে শুধু মালদা জেলাতেই এই সংগঠনের প্রায় ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার মহিলা সদস্য রয়েছে, যা নারী শক্তির জাগরণের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য উদ্যোগে নতুন দিগন্ত

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শোভা মহিলা মঙ্গল সমিতি এক বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই মুহূর্তে সংগঠনটি মালদা জেলার ২৩টি নার্সিং হোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য পরিসেবা দিয়ে চলেছেন।
সাধারণ মানুষ যাতে নামমাত্র খরচে বা বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পেতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,এখানে রোগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে সমস্ত টেস্টে ২০ শতাংশ ছাড় এবং ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সমস্ত ওষুধের ওপর ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়। এছাড়াও নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের মাধ্যমে অসহায় রোগীদের মুখে হাসি ফোটানোর কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।


শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলো ছড়ানোর প্রয়াস

শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় এই সত্যকে সামনে রেখে শোভা মহিলা মঙ্গল সমিতি গড়ে তুলেছে বহুমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঠশালা। সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে:
শোভা এডুকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার
ফ্রি কোচিং সেন্টার
ফ্রি এরাবিক পাঠ ও সংস্কৃত ক্লাস
ফ্রি গীতা পাঠশালা
ফ্রি পাঠাগার ও স্টুডেন্ট সেবা
সমাজের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে এই সংস্থা।


সমাজকল্যাণ ও মানবসেবার অনন্য রূপ

মানবসেবার পরিধি কেবল শিক্ষা ও চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ রাখেনি এই সমিতি। সমাজের অবহেলিত ও প্রবীণ মানুষদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ফ্রি বৃদ্ধাশ্রম:বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও আশ্রয়হীন প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী সেবা:বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ফ্রি রক্তদান সেবা:জীবন বাঁচানোর তাগিদে নিয়মিত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।

এছাড়া পিছিয়ে থাকা মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার কাজ অত্যন্ত সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে এই সংগঠন।


বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপসহীন লড়াই

গ্রামীণ সমাজে আজও অন্যতম বড় অভিশাপ হলো বাল্যবিবাহ।এই সামাজিক ব্যাধিকে সমূলে উৎপাটন করতে শোভা মহিলা মঙ্গল সমিতি অত্যন্ত কঠোর ও সচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করে আসছে।বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কোনো মেয়ের জীবনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় সংগঠনটি। এছাড়া সমাজের দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা পর্যন্ত সব ধরনের সামাজিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।


মানুষের সেবাই আমাদের কাজ

সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি এবং প্রতিষ্ঠাতা রাজেশ মহলদার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, মানুষের সেবাই প্রকৃত ধর্ম। তিনি বলেন, “মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ।” এবং “মানুষকে সেবা করে বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে পাই।” তাঁর এই অন্তরের গভীর উপলব্ধি ও মানবপ্রেম আজ হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
শোভা মহিলা মঙ্গল সমিতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে,সদিচ্ছা ও ভালোবাসার হাত থাকলে যেকোনো সমাজেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অন্ধকার দূর করে আশার প্রদীপ জ্বেলে চলা এই সংস্থা আজ মানবতা ও কল্যাণের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর