নয়া জামানা : অবশেষে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস সমাবেশের জন্য অনুমতি পেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আসল তৃণমূল শিবির। আসল তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশ এলাকা পরিদর্শনে যাবেন ঋতব্রতরা। অনুমতি মেলার পরই সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই কালীঘাট শিবির ও ঋতব্রত শিবির— দুই পক্ষই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। তবে ওই এলাকায় জারি থাকা ১৬৩ ধারার কথা উল্লেখ করে কলকাতা পুলিশ দুই শিবিরের আবেদনই খারিজ করে দেয়।
ধর্মতলায় অনুমতি না মেলার পর বিকল্প জায়গার সন্ধানে নামেন ঋতব্রতপন্থীরা। এই সূত্রেই রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে দেখা করে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করার অনুমতি চান তাঁরা। শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি মিলেছে বলে ‘আসল’ তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে। অনুমতি হাতে পাওয়ার পরই আগামী সোমবার ওই এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবেন ঋতব্রত-শিবিরের নেতৃত্ব, এবং সমাবেশের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিকে ধর্মতলায় সভার অনুমতি না পেয়ে ভিন্ন পথ নিয়েছে কালীঘাট শিবির। পুলিশের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। ফলে কালীঘাট শিবির শেষ পর্যন্ত কোথায় ২১ জুলাই পালন করবে, তা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা।
তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ২১ জুলাই বরাবরই এক মেগা রাজনৈতিক ইভেন্ট। ১৯৯৩ সালের ওই দিনে তৎকালীন যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে সরকারপক্ষের গুলিচালনায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করে আসছে দলটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনেও দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এবার দলীয় কোন্দলে বিদ্ধ তৃণমূলের ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঋতব্রত শিবির বিকল্প ভেন্যুর অনুমতি পেলেও, কালীঘাট তৃণমূল কোথায় সমাবেশ করবে তা এখনও অনিশ্চিত। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট জানিয়ে রেখেছেন, প্রয়োজনে রিকশায় দাঁড়িয়ে হলেও তিনি এবারের ২১ জুলাই পালন করবেন। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সোমবারের পরিদর্শন ও তার পরবর্তী প্রস্তুতির দিকে, পাশাপাশি হাইকোর্টে কালীঘাট শিবিরের মামলার ফলাফলের অপেক্ষাতেও রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।