নয়া জামানা : একদা শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সিঙ্গুর আন্দোলনে ধাক্কা খেয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাম সরকার। সেই আন্দোলনকে পুঁজি করেই ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু ‘সরকার শিল্পের জন্য জমি ছোঁবে না’ নীতি নিয়ে বাংলার শিল্পায়নে কার্যত দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি করেছিলেন তিনি। ঠিক দুই দশক পর সেই নীতি আমূল বদলে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শপথ নেওয়ার দুই মাসের মাথায়, শনিবার হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের ৬০০ কোটি টাকার কারখানা সম্প্রসারণের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হতে চলা এই দ্বিতীয় ইউনিট থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
মঞ্চ থেকে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের মতো জমির দায়িত্ব পুরোপুরি শিল্পপতিদের হাতে ছেড়ে দেবে না তাঁর সরকার। বাজারের হাতে সবটা ছাড়লে ফড়েদের দৌরাত্ম্য বাড়ে এবং জটিলতা তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর বদলে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের ধাঁচে এবার থেকে রাজ্য সরকার নিজেই সরাসরি জমি কিনে তা নির্দিষ্ট শিল্প সংস্থাকে হস্তান্তর করবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী জমির মালিকরা বাজারদরের পাশাপাশি ১০০ শতাংশ সোলাসিয়াম, এবং শহরাঞ্চলে দ্বিগুণ ও গ্রামাঞ্চলে চারগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাবেন।
১৯৭৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের আনা আরবান ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট— যার আওতায় কোনও ব্যক্তি সাড়ে সাত কাঠার বেশি জমি নিজের নামে রাখতে পারতেন না— তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারতের অন্য রাজ্যগুলি বহু আগে এই আইন তুলে নিলেও বাংলায় তা বলবৎ থাকায় বাইপাসের অ্যাপোলো হাসপাতালের মতো একাধিক বড় প্রকল্পে দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এই আইন বাতিল হলে বড় জমির মালিকদের আর সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিল্ডিং প্ল্যান বা অন্যান্য অনুমোদনের জন্য পৃথকভাবে জেলা পরিষদ, পুরসভা বা পঞ্চায়েত সমিতির দ্বারস্থ হতে হবে না। স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যস্তরের সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমেই কেন্দ্রীয়ভাবে সমস্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য সরকারি চাকরি, বেসরকারি চাকরি ও ব্যবসা— এই তিন ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায়। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজ্যের রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যে জমি নীতিতে এই বড় পরিবর্তন বাংলায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
বাণিজ্যিক এলপিজির বরাদ্দ বাড়াল, কেন্দ্র, অগ্রাধিকার হোটেল-রেস্তরাঁকে