নয়া জামানা : আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলায় নতুন মোড়। মূল মামলার পাশাপাশি এবার নির্যাতিতার ভিসেরা নমুনা ও রিপোর্ট বিকৃতির অভিযোগেরও তদন্ত করবে সিবিআই। নির্যাতিতার পরিবারের আবেদন মঞ্জুর করে এই নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদহ অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্তকারী অফিসারকে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
কিছুদিন আগে বেলগাছিয়ার রাজ্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির এক প্রাক্তন কর্মী নিজেকে পরিচয় দিয়ে নির্যাতিতার পরিবারকে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে দাবি করা হয়, ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর ভিসেরা নমুনা রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবেই বদলে বা নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। শরীরে কোনও বিষক্রিয়া বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতেই এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। চিঠি অনুযায়ী, রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগের তিন আধিকারিক এই কাজে যুক্ত ছিলেন, এবং সেই ‘বিকৃত’ নমুনাই পরে কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হয়। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, একই তিন আধিকারিক তৃণমূল আমলে খুন হওয়া বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের ভিসেরা নমুনা নষ্ট করার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, চিঠিতে এই নমুনা বদলের নির্দেশ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে এসেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ এখনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার তরফে যাচাই করা হয়নি— এটি এখনও পর্যন্ত চিঠিতে করা একটি দাবি মাত্র।
চিঠি হাতে পাওয়ার পর নির্যাতিতার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হন এবং সিবিআই তদন্তের আর্জি জানান। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত জানিয়েছে, মূল ধর্ষণ-খুনের মামলার পাশাপাশি ভিসেরা সংক্রান্ত অভিযোগও খতিয়ে দেখবে সিবিআই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র গোপনীয়ভাবে সিল করা খামে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে পাঠাতে হবে, এবং সেই নথির ফটোকপি সিল করা খামেই মামলার নথির সঙ্গে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নাইট শিফটে থাকাকালীন এক তরুণী চিকিৎসককে সেমিনার হলে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ, পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার ভার নেয় সিবিআই। শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়, তবে তদন্তে সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন যাঁরা এখনও তদন্তের বাইরে রয়ে গিয়েছেন। রাজ্যে সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই মামলা নতুন করে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন। ভিসেরা বিকৃতির অভিযোগ সামনে আসার পর মামলাটি নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্ট এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে।