আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, পূর্ব বর্ধমান: আসন্ন ২১শে জুলাইয়ের শহীদ স্মরণ সমাবেশকে সফল করতে বর্ধমানের দলীয় দপ্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হল। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এই সভা থেকেই একদিকে যেমন বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করা হয়, তেমনই দলের কঠিন সময়ে কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দেন নেতৃত্ব।
সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান পরিস্থিতিকে দলের জন্য কিছুটা ‘কঠিন সময়’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পুলিশের ভয়ভীতি, হুমকি ও বিরোধীদের বাধা উপেক্ষা করেও যাঁরা এই সভায় এসেছেন, তাঁরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল কর্মী। আগামী দিনে এদের মধ্য থেকেই নেতা নির্বাচন করা হবে। বর্ধমানে সম্প্রতি এক তৃণমূল কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিজেপির মানসিক চাপের কারণেই ওই কর্মী আত্মহত্যা করেছেন। সাংসদ কীর্তি আজাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মৃত কর্মীর পরিবারের সাথে দেখা করবে। পাশাপাশি কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী এক বছর তিনি অন্য কোনো রোজগার না করে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের হয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি লড়াই লড়বেন।
২১শে জুলাইয়ের সমাবেশের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্ট যেখানে অনুমতি দেবে, সেখানেই সমাবেশ হবে। এছাড়া রাজ্য সরকারের ‘গুন্ডা দমন বিল’ এবং বালি ও মাটির রেট বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি কর্মীদের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে দলে দলে শহীদ স্মরণ সভায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।