নয়া জামানা শিলিগুড়ি ডেস্ক : খাতায় কলমে তিনি ফেরার, সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন বাতিল করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে জারি আছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তবুও পুলিশ তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না। অথচ মঙ্গলবার সকালে মাটিগাড়ার শিবমন্দির বাজারে ঘুরতে দেখা গিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের প্রধান আসামি বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে। রেললাইন লাগোয়া মাছ বাজারে দরদাম করে মাছও কিনেছেন তিনি।
প্রশান্তকে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখে অবাক হয়ে যান ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষজন। সব জেনেও ইচ্ছে করেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। নির্বাচনের মুখে সন্ধ্যা ৬টার পর বাইক চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে কমিশন। অথচ প্রভাবশালী খুনের আসামি প্রকাশ্যে ঘোরায় প্রশ্নের মুখে কর্তারা। পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ মন্তব্য করেননি।
এক সঙ্গীকে নিয়ে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বাজারে যান প্রশান্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সবজি বাজার ঘুরে মাছের দোকানে গিয়ে দরদাম করে মাছ কেনেন। তারপর হেঁটে বেরিয়ে যান। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বিস্মিত নন। একজনের কথা, বিডিও তো মাঝেমধ্যেই বাজারে আসেন। এটা নতুন নয়।
মাছ ব্যবসায়ী কিছু বলতে রাজি হননি। তাঁর কথা, কত খদ্দেরই তো আসেন, সবাইকে চিনি না। অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যাপক প্রশান্তকে দেখে অবাক। তাঁর কথা, এতকিছুর পরও কোন সাহসে ঘুরে বেড়াচ্ছে জানি না। এক সবজি বিক্রেতার গলায় আতঙ্ক, শুনেছি একজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার আসামি ওই বিডিও। আমরা কিছু বললে আমাদেরও তুলে নিয়ে যেতে পারে।
শিবমন্দিরে প্রশান্তর দুটি বাড়ি। স্থানীয়দের ধারণা, সেখানেই থাকছেন। সকালে এসপি মুখার্জি রোডের বাড়িতে তালা থাকলেও সন্ধ্যায় অন্য বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখা গিয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, প্রশান্ত পালাননি, রাজার হালেই আছেন। মাঝেমধ্যেই রাতে নীলবাতি লাগানো দামি গাড়ি ঢোকে তাঁর বাড়িতে।
এক প্রতিবেশীর কথা, বিডিওর কুকীর্তির জন্য আমাদের বদনাম হচ্ছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ দরকার।