নয়া জামানা ডেস্ক : পরিবর্তনের প্রবল ঝড়ে ওলটপালট হয়ে গেল দেশের একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র। চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট যে, মানুষ নতুনত্বের পক্ষে রায় দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু— সর্বত্রই বইছে পালাবদলের ঝোড়ো হাওয়া। উত্তর-পূর্বের অসম ছাড়া বাকি সব জায়গাতেই বর্তমান শাসক শিবিরকে বিদায় নিতে হয়েছে। বাংলায় বিজেপি ২০০-র গণ্ডি পেরিয়ে সরকার গড়ার পথে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ভারতেও দেখা গিয়েছে ক্ষমতার ব্যাপক রদবদল। কেরলে বামপন্থী জোটের বিদায় নিশ্চিত করে জয়ের হাসি হেসেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিনের ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র বাইনারি সমীকরণ তছনছ করে দিয়েছেন অভিনেতা বিজয়। ব্যতিক্রম শুধু অসম, যেখানে টানা তৃতীয় বারের জন্য পদ্ম শিবিরই ক্ষমতায় ফিরছে। তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৭টি আসনে জয়ী হয়েছে অভিনেতা-নেতা বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ বা টিভিকে। শাসকদল ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন এবং এআইডিএমকে জয়ী হয়েছে ৪৭টি আসনে। সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১১৭। সূত্রের খবর, লক্ষ্যপূরণে বিজয়ের টিভিকে এবার কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়ার পথে এগোচ্ছে। পর্দার ‘মাস হিরো’ বিজয় চন্দ্রশেখর ২০২৪ সালে দল গড়ে কৌশলী চালে সরাসরি ২০২৬-এর বিধানসভাকে পাখির চোখ করেছিলেন। যুবসমাজের সমর্থন আর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেই তিনি এই বিরল সাফল্য পেয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মনে সংশয় রয়েই গিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, ‘অ্যাকশন হিরো থেকে ক্ষমতার মসনদে, টিকে থাকতে পারবেন তো বিজয়?’ কেরলেও পরিবর্তনের সুর তীব্র। ১৪০টি আসনের মধ্যে ৬৩টি দখল করেছে কংগ্রেস। বিদায়ী শাসক সিপিএম পেয়েছে ২৬টি আসন। এ ছাড়া আইইউএমএল ২২টি, সিপিআই ৮টি এবং কেরল কংগ্রেস ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ম্যাজিক ফিগার ৭১ অতিক্রম করে সেখানে সরকার গড়তে চলেছে ইউডিএফ। পুদুচেরিতেও কংগ্রেসকে বিদায় নিতে হয়েছে। সেখানে বিজেপি সমর্থিত অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস ১০টি আসন জিতে এগিয়ে রয়েছে। পুদুচেরিতে অভিনেতা বিজয়ের দলও ২টি আসনে জয় পেয়েছে।এত পরিবর্তনের মাঝেও অটল রয়েছে অসম। ১২৬টি আসনের মধ্যে ৮১টি দখল করে সেখানে হ্যাটট্রিক করেছে বিজেপি। কংগ্রেস সেখানে মাত্র ১৫টি আসনে জয় পেয়েছে। অসমে তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। স্টারডমকে কেবল ভোট টানার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে সাংগঠনিক ক্ষমতায় জোর দিয়েছিলেন বিজয়। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘এই সাফল্যই শেষ কথা নয়। বরং এখান থেকেই শুরু আসল পরীক্ষার।’ প্রশাসন চালানো এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পরম্পরা ছাড়া ক্ষমতা ধরে রাখাই হবে বিজয়ের আগামী দিনের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ‘স্টারডমকে কাজে লাগিয়ে তারকা প্রার্থীরা নির্বাচনে জয় লাভ করেন’— এই ধারণাকে বিজয় নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। এখন দেখার, এই জনসমর্থন তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন। পরিবর্তন আর প্রত্যাবর্তনের এই লড়াইয়ে আপাতত নজর কাড়ছেন পর্দার নায়ক থেকে বাস্তবের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলা বিজয়।