নয়া জামানা ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রত্যাঘাতের আবহের মধ্যেই সুর নরম করল ইরান। শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর আর নতুন করে কোনও হামলা চালানো হবে না। গত কয়েকদিনের উত্তেজনার পর তেহরানের এই অবস্থানবদলকে কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।জাতির উদ্দেশে ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। যদি ইরান সরাসরি তাদের দ্বারা আক্রান্ত না হয়, তবে তেহরানও আর হামলা চালাবে না। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি আরও বলেন, অন্য দেশগুলোকে আক্রমণ করার কোনও ইচ্ছা আমাদের নেই। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই শান্তির বার্তার অর্থ কোনও ভাবেই আত্মসমর্পণ নয়।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর পালটা আঘাত শুরু করে ইরান। প্রাথমিকভাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা শুরু হলেও দ্রুত তা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান ও জর্ডনে ইরানের বেপরোয়া আক্রমণের ফলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সৌদি আরব পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দিলে যুদ্ধের আঁচ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক ক্ষমা চাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে নিটোল কূটনৈতিক সমীকরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বে ইরান কার্যত ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও বাহরিনের মতো রাষ্ট্রগুলো কোনও ভাবেই ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের অংশ হতে চায় না।অধিকাংশ আরব দেশের সঙ্গে আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা তারা ঝুঁকির মুখে ফেলতে নারাজ।শিয়া প্রধান ইরানের সঙ্গে সুন্নি প্রধান আরব দেশগুলোর দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন।সংঘাতের আঁচ থেকে নিজেদের রাষ্ট্রকে বাঁচাতে অধিকাংশ মুসলিম দেশ তেহরান থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে।বিশ্লেষকদের মতে, একাকী হয়ে পড়া ইরান এখন মুসলিম বিশ্বের সমর্থন ফিরে পেতে চাইছে। শিয়া-সুন্নি বিভাজন ভুলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে পাশে পাওয়াই এখন তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।