• Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • মসনদ কার ? ছাব্বিশের ভোট-অঙ্কে নজর কাড়ছে ‘এসআইআর’ ফ্যাক্টর

মসনদ কার ? ছাব্বিশের ভোট-অঙ্কে নজর কাড়ছে ‘এসআইআর’ ফ্যাক্টর

নয়া জামানা ডেস্ক : ফুলেদের লড়াই আর হাত-কাস্তে কাটাকুটির অঙ্কে আটকে রয়েছে বাংলার মসনদ। ভোট শেষ হওয়ার পর এখন নিশ্বাস ফেলার সময় হলেও স্নায়ুর চাপ কমেনি রাজনৈতিক শিবিরে। চব্বিশের লড়াই শেষে আগামী ৪ মে-র ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।....

মসনদ কার ? ছাব্বিশের ভোট-অঙ্কে নজর কাড়ছে ‘এসআইআর’ ফ্যাক্টর

নয়া জামানা ডেস্ক : ফুলেদের লড়াই আর হাত-কাস্তে কাটাকুটির অঙ্কে আটকে রয়েছে বাংলার মসনদ। ভোট শেষ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : ফুলেদের লড়াই আর হাত-কাস্তে কাটাকুটির অঙ্কে আটকে রয়েছে বাংলার মসনদ। ভোট শেষ হওয়ার পর এখন নিশ্বাস ফেলার সময় হলেও স্নায়ুর চাপ কমেনি রাজনৈতিক শিবিরে। চব্বিশের লড়াই শেষে আগামী ৪ মে-র ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ। পাটিগণিতের হিসেবে এবার বড় বদল ঘটিয়েছে নির্বাচন কমিশনের এক্স ফ্যাক্টর ‘এসআইআর’। জালিয়াতি রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি আর ভিন রাজ্যের অবজারভারের কড়া পাহারায় ভোট হয়েছে দুই দফায়। শান্তি বজায় থাকলেও অঙ্ক কষতে গিয়ে নাজেহাল দশা শাসক তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী বিজেপি-র। অন্যদিকে, হারানো জমি উদ্ধারে অক্সিজেন খুঁজছে বাম-কংগ্রেস শিবির। রাজ্যের দুই প্রধান মেরুর লড়াইয়ের মধ্যে এবার ‘শান্তিপূর্ণ ভোট’ নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তুলনায় কিছুটা নির্ভার বামেরা। তাদের হারানোর কিছু নেই, বরং পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জিনিসপত্রের চড়া দাম, নিয়োগ দুর্নীতি, আর রুজিরুটির টানে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেওয়ার যন্ত্রণা এবার ব্যালট বক্সে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ধর্মীয় মেরুকরণ আর হিন্দু-মুসলিম তাস এবারের প্রচারে বারবার ফিরে এলেও আসল লড়াইটা ছিল সাধারণ মানুষের ‘একটু ভালো’ থাকার আশায়। সেই আশা পূরণে কোন পক্ষ সফল হবে, সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির কাছে লড়াইটা জীবন-মরণ। মসনদ দখল করতে না পারলে আগামী কয়েক দশকে বাংলায় তাদের ভিত শক্ত করা অসম্ভব হয়ে যাবে। একই দশা ঘাসফুল শিবিরের। ক্ষমতা থেকে চ্যুত হলে দল ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, বাংলার রাজনীতিতে ‘ঐতিহ্যবাহী’ ঘোড়া কেনাবেচার সংস্কৃতি বেশ পরিচিত। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দুই ফুলে যাতায়াতের যে ইতিহাস বাংলায় আছে, তা দলের অস্তিত্বের সামনে প্রশ্নচিহ্ন বসাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম গত দুই বছর ধরে তিলতিল করে দলের ভিত সাজিয়েছেন। ২০১৬ বা ২১-এর শূন্যের গেরো কাটিয়ে আলিমুদ্দিনের নেতারা এবার কিং-মেকারের স্বপ্ন দেখছেন। বামেদের অন্দরে এখন নতুন হাওয়া। দলের অনেক নেতার দাবি, তাঁদের সমর্থন ছাড়া এবার কেউ সরকার গড়তে পারবে না। তখন অন্যদের ওপর বামেদের চাপ বাড়বে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার অন্তত বিধানসভায় ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী লাল শিবির। যদিও মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমরা মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে দায়বদ্ধ থাকব। ঘোড়া কেনাবেচায় থাকব না।’ সেলিমের এই দাবির বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা বোঝা যাবে মে মাসের চার তারিখেই। তবে ভোটের ময়দানে এবার বামেরা যে বেশ কিছু জায়গায় সফল, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। বামেদের বড় প্রাপ্তি এবারের ভোট ব্যবস্থাপনায় তরুণ মুখদের সামনে আনা। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্ত বা দীপ্সিতা ধররা যেভাবে মাঠ কামড়ে পড়েছিলেন, তা অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যেও দেখা যায়নি। প্রায় ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ বুথে এজেন্ট বসাতে পেরেছে বামেরা। ‘বাংলা বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে সিপিআইএম-এল লিবারেশন থেকে শুরু করে আইএসএফ কিংবা এসডিপিআই-এর মতো আঞ্চলিক দলকে এক ছাতার তলায় এনেছে মহম্মদ সেলিমের রণকৌশল। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে শেষমেশ জট রয়েই গেছে। শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে কংগ্রেস একলা চলো নীতিতে বাংলার হৃত গৌরব ফেরানোর লড়াই লড়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো পুরনো গড়ে তাদের আধিপত্য বজায় থাকবে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তাদের পাশে থাকবে বলেই আশা শুভঙ্কর সরকারদের। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি-র অজুহাতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর সময় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এত বড় প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বাংলার মানুষ সব বাধা অতিক্রম করে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। মানুষ চাইছেন কংগ্রেসের নেতৃত্বে বাংলার হারানো গৌরব ফিরে আসুক।’ বাংলার রাজনীতিতে এবারের ভোট অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। ধর্ম আর খয়রাতির রাজনীতির বন্যায় একসময় বামেদের ৩৪ বছরের দুর্গের ভিত টলে গিয়েছিল। সেই ভিত পুনরুদ্ধারে ২০২২ সাল থেকে মহম্মদ সেলিম ইঁটের ওপর ইঁট গেঁথেছেন। এখন দেখার, ৪ মে সেই ইঁট দিয়ে মজবুত প্রাচীর তৈরি হয় নাকি সব হিসেব উল্টে যায়। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, চাকরি চলে যাওয়া আর পুলিশি হয়রানির মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলো ভোটারদের মাথায় ছিল। পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভও ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা পেটের টানে বাইরে গিয়ে মার খেয়েছেন কিংবা সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন, তাঁদের রায় কোন দিকে যায় সেটাই দেখার। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সকলের ভাগ্যে সিকি ছেঁড়ার সম্ভাবনা থাকাই সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ। কিন্তু এবারের জটিল পাটিগণিত আর ‘এসআইআর’ ফ্যাক্টর সেই উত্তর মেলানোর কাজটা কঠিন করে দিয়েছে। শাসক দল কি পারবে মসনদ ধরে রাখতে? নাকি পদ্ম ফুটে উঠবে বাংলার তখতে? অথবা বাম-কংগ্রেস জোট কি দুই ফুলের লড়াইয়ের মাঝে ফাটল ধরিয়ে ফিরে আসবে মূল স্রোতে? সব প্রশ্নের উত্তর এখন ইভিএমে বন্দি। বাংলার মানুষের রায় কোন পথে দিশা দেখাবে, ৪ মে-র সকালে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনীতির কারবারিরা। কারণ প্রবাদ আছে, বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত ভাবে আগামীকাল। সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতিফলন এবার ব্যালটে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে চলছে টানটান উত্তেজনা।


“আমার নাম আছে, তবুও কেন ভোট দিতে পারব না?” ৯ জনের আক্ষেপের সাক্ষী থাকলো পোলিং স্টেশন

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর