কমল গণনাকেন্দ্র, ‘কড়াকড়ি’ কিউআর কোডে

নয়া জামানা ডেস্ক : ভোট মিটলেও উত্তাপ কমছে না বঙ্গে। আগামী ৪ মে, সোমবার গণনা। তার ঠিক মুখে রাজ্যের ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য এ বার রাজ্যে চিহ্নিত হল মাত্র ৭৭টি কেন্দ্র। গত....

কমল গণনাকেন্দ্র, ‘কড়াকড়ি’ কিউআর কোডে

নয়া জামানা ডেস্ক : ভোট মিটলেও উত্তাপ কমছে না বঙ্গে। আগামী ৪ মে, সোমবার গণনা। তার....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : ভোট মিটলেও উত্তাপ কমছে না বঙ্গে। আগামী ৪ মে, সোমবার গণনা। তার ঠিক মুখে রাজ্যের ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য এ বার রাজ্যে চিহ্নিত হল মাত্র ৭৭টি কেন্দ্র। গত দু’সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ছাঁটাই করল কমিশন। এর আগে সংখ্যাটি ১০৮ থেকে কমিয়ে ৮৭ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্যের সিইও মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, ‘প্রয়োজনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭-এর চেয়েও কমতে পারে।’ ২০১৬ সালে রাজ্যে ৯০টি এবং ২০২১ সালে ১০৮টি কেন্দ্রে গণনা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারের সংখ্যাটি বেশ কম। ভোটগণনার প্রাকমুহূর্তে গণনাকেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। গণনাকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশ রুখতে এ বার নজিরবিহীন কড়াকড়ি করছে কমিশন। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে কিউআর কোড। ওই কোড স্ক্যান করেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হবে। কমিশন জানিয়েছে, গণনাকেন্দ্রে ঢোকার আগে ত্রিস্তরীয় যাচাইকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে কর্মীদের। প্রথমে কেন্দ্রের মুখে, দ্বিতীয়বার গণনাকক্ষে যাওয়ার পথে এবং শেষবার কক্ষের প্রবেশদ্বারে আইডি কার্ড পরীক্ষা করা হবে। রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং ও টেকনিক্যাল স্টাফ, প্রার্থী এবং এজেন্টদের জন্য এই বিশেষ কার্ডের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ‘ভোট গণনা আরও নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’ বলে জানিয়েছে কমিশন। ইভিএম এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রতিটি স্ট্রংরুমে পাহারায় থাকছেন অন্তত ২৪ জন জওয়ান। আগে ২০০ কোম্পানি বাহিনী বরাদ্দ থাকলেও এখন সেই সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলাওয়ারি গণনাকেন্দ্রের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আসন থাকা উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি বিধানসভা আসনের জন্য থাকছে ৭টি কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ অ্যান্ড হাইস্কুল, বসিরহাট হাই স্কুল, বসিরহাট পলিটেকনিক কলেজ, বিধাননগর কলেজ, বনগাঁর দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়, পানিহাটির গুরুনানক কলেজ ক্যাম্পাস এবং ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের গণনা হবে ৬টি কেন্দ্রে। এই তালিকায় রয়েছে যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ, ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সর্দার কলেজ, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, আলিপুরের বিহারিলাল কলেজ, হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্স এবং কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়। কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গোনা হবে মাত্র পাঁচটি কেন্দ্রে। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল এবং ডায়মন্ড হারবার রোডের সেন্ট থমাস বয়েজ় স্কুলে সোমবার সকাল থেকে চলবে ভাগ্য নির্ধারণ। অন্যান্য জেলার মধ্যে আলিপুরদুয়ারে ১, বাঁকুড়ায় ৩, বীরভূমে ৩ এবং কোচবিহারে ৫টি কেন্দ্রে গণনা হবে। দক্ষিণ দিনাজপুরে ২, দার্জিলিঙে ৩, হুগলিতে ৫, হাওড়ায় ৪ এবং জলপাইগুড়িতে ২টি কেন্দ্র চিহ্নিত হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ও কালিম্পঙে ১টি করে কেন্দ্রে ভোটগণনা চলবে। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনের গণনা হবে রানি ইন্দিরা দেবী সরকারি স্কুলে। কালিম্পঙের একটি আসনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে স্কটিশ উইনিভার্সিটিস মিশন ইনস্টিটিউশন। মালদহে ২, মুর্শিদাবাদে ৫, নদিয়ায় ৪ এবং পশ্চিম বর্ধমানে ২টি কেন্দ্র থাকছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩, পূর্ব বর্ধমানে ৪, পূর্ব মেদিনীপুরে ৪, পুরুলিয়ায় ৩ এবং উত্তর দিনাজপুরে ভোটগণনা হবে ২টি কেন্দ্রে। গণনাকেন্দ্রের কাছেই থাকবে মিডিয়া সেন্টার। তবে সেখানে অবাধ প্রবেশাধিকার থাকছে না। কমিশনের অনুমোদিত চিঠি থাকলেই কেবল সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। কমিশনের মতে, ‘অবৈধ বা অনুমতি ছাড়া কেউ যাতে গণনাকক্ষে ঢুকতে না-পারেন, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ।’ ‘আমরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। তার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’— মনোজ অগ্রবালের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শেষ মুহূর্তে আরও রদবদল ঘটতে পারে। মূলত কারচুপি এড়াতে এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ রুখতেই এই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে স্ট্রংরুমগুলিকে। সোমবারের অগ্নিপরীক্ষায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। আপাতত কিউআর কোডের নজরদারিতে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ গণনাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা তুঙ্গে। ছবি পিটিআই।


বাংলাদেশ জয়ে তারেককে ভাই বলে সম্বোধন মমতার, সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর