নয়া জামানা ডেস্ক : ৫১ লক্ষ ভোটার কমলেও ভোটদাতার সংখ্যা বাড়ল একধাক্কায় ৩০ লক্ষ! লোকসভা নয়, বিধানসভা নির্বাচনের এমন ‘চমকপ্রদ’ কাণ্ডেই এখন জাতীয় রেকর্ডের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে তো বটেই, সারা দেশের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখেও ভোটদানের এই হার সর্বোচ্চ। দুই দফা শেষে রাজ্যে ভোটের হার ৯২ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার কমলেও ভোটদাতার এই বিপুল বৃদ্ধি নিশ্চিত ভাবেই নির্বাচনের ফলাফলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। এত দিন ধরে যাঁরা ভোট দেননি, তাঁদের রায় এবার সব হিসেব উল্টে দিয়ে নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণকারী হয়ে উঠতে পারে।প্রথম দফার ভোটের ধারা বজায় থাকল দ্বিতীয় দফাতেও। রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা আগের চেয়ে কমলেও অনেকটা বেড়ে গেল ভোটদাতার সংখ্যা। দুই দফাতেই প্রচুর মানুষ বুথে গিয়ে ভোট দিলেন। এমনকি, যাঁরা সাধারণত বুথমুখী হন না, তাঁদেরও এ বার ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেল। রাজ্যে ভোটের হার ৯২ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়েছে ইতিমধ্যেই। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, সারা দেশে সমস্ত বিধানসভা নির্বাচনে এ যাবৎ ভোটদানের হারে এটাই সর্বোচ্চ। সর্বভারতীয় রেকর্ড। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় রাজ্যে এবার ৫১ লক্ষ ভোটার কমেছে। অথচ আশ্চর্যজনক ভাবে ভোট পড়েছে আগের বারের চেয়ে ৩০ লক্ষ বেশি। দুই দফা মিলিয়ে ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। রাত ১২টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়েছে ৯২.৬৩ শতাংশ। সাধারণ অংকে ভোটার কমলে এবং সমসংখ্যক মানুষ ভোট দিলে শতাংশের হার বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সেই হিসেবকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এসআইআর-এর পর অন্য রাজ্যেও ভোটার কমলেও এমন বেনজির ঘটনা কোথাও ঘটেনি। পরিসংখ্যান স্পষ্ট করছে, নানা কারণে যাঁরা আগে ভোট দিতেন না বা দিতে পারতেন না, তাঁরা এবার বিপুল সংখ্যায় গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটের ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গের এই হিসাব বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। এত দিন ধরে ভোট দেননি যাঁরা, তাঁদের ভোট এ বার সব হিসাব উল্টে দিতে পারে। এই বাড়তি ভোটই হয়ে উঠতে পারে নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণকারী! তথ্য বলছে, গতবারের তুলনায় যে ৩০ লক্ষ বাড়তি ভোট পড়েছে, তার মধ্যে ২১ লক্ষই প্রথম দফার। দুই দফার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ১০ হাজার জন করে বেশি মানুষ বুথে গিয়েছেন। প্রথম দফার আসনগুলিতে এই গড় বৃদ্ধির পরিমাণ ১৪,২৩৭। দ্বিতীয় দফায় বিধানসভা ভিত্তিক সেই বৃদ্ধির পরিমাণ ৬,৬১৫ জন কৌতূহলের বিষয় হল, গত বারের তুলনায় যে ৩০ লক্ষাধিক মানুষ এ বার বেশি ভোট দিলেন, তার মধ্যে ২১ লক্ষই রয়েছেন প্রথম দফায়। দুই দফার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গত বারের তুলনায় এ বছর প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ১০ হাজার জন করে বেশি ভোট দিয়েছেন। তবে বিধানসভা ভিত্তিক হিসাবে ফারাক রয়েছে। প্রথম দফার আসনগুলিতে গড়ে ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে ১৪,২৩৭ জন করে। দ্বিতীয় দফায় বিধানসভা ভিত্তিক সেই বৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ৬,৬১৫। বুথফেরত সমীক্ষায় কোথাও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও শাসক তৃণমূল ক্ষমতা ধরে রাখছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে লড়াই যে অতি হাড্ডাহাড্ডি, সেই ইঙ্গিত সর্বত্রই স্পষ্ট। যদিও ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলে, অনেক ক্ষেত্রেই এই সমীক্ষা মেলে না। তবে মিলে যাওয়ার কিছু নিদর্শনও রয়েছে। প্রচলিত রাজনৈতিক ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, শাসক সরকারের বিপক্ষে জনতা রায় দেয় বলেই মনে করা হয়। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব লোকসভা বা গত বিধানসভা নির্বাচনের দৃষ্টান্ত টেনে এই প্রতিযুক্তি দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সেবারও অনেক ভোট পড়েছিল এবং ফল শাসকের পক্ষেই গিয়েছিল। বিহারের উদাহরণ টেনে বলা হচ্ছে সেখানেও এসআইআর-এর পর ভোটের হার বাড়লেও ক্ষমতাসীন সরকারের ‘প্রত্যাবর্তন’ হয়েছিল। বিরোধী শিবির অবশ্য ২০১১ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পরিবর্তনের আশায় বুক বাঁধছে। সেবার ৮৪.৩৩ শতাংশ ভোটে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়েছিল। পরিবর্তনের হাওয়ায় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এ বারের পশ্চিমবঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক বাড়তি ভোট কোন পক্ষে যায়, সেটাই দেখার। ৯২ শতাংশের এই রেকর্ড ভোটদান গোটা দেশকে চমকে দিয়েছে। ভাগ্য পরিবর্তনের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তার উত্তর দেবে সময়। ‘চমকপ্রদ’ এই কাণ্ড শেষ পর্যন্ত কার মুখে হাসি ফোটায়, নজর এখন সেদিকেই। তবে ৯২ শতাংশের এই রেকর্ড ভোটদান গোটা দেশকে চমকে দিয়েছে। ভাগ্য পরিবর্তনের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তার উত্তর দেবে সময়। এই বাড়তি ৩০ লক্ষ ভোটই এখন ভাগ্যবিধাতা হতে চলেছে। সব হিসেব বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত এখন স্পষ্ট।