নয়া জামানা, কলকাতা : ভোট মিটলেও স্বস্তিতে নেই কমিশন। বরং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম তৎপরতা। ইভিএমে বন্দি জনমতের নিরাপত্তায় এবার মোতায়েন করা বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগে যেখানে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাহারার দায়িত্বে ছিল, সেই সংখ্যা এখন আরও বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি স্ট্রংরুমের চৌকাঠ পাহারা দিতে মোতায়েন থাকছেন ন্যূনতম ২৪ জন করে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় জওয়ান। নিশ্ছিদ্র পাহারায় ভোটযন্ত্র আগলে রাখাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যের ২০২টি স্ট্রংরুমে বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে ইভিএম। এই যন্ত্রগুলোর পাহারায় মোতায়েন করা হয়েছে মোট ৬০৭ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী। আগে মোতায়েন থাকা ২০০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে ছিল ১০০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ২০ কোম্পানি বিএসএফ, ১৫ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ১৫ কোম্পানি এসএসবি। তবে গণনার দিন যত এগোচ্ছে, নিরাপত্তার জাল ততটাই আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।’ কোনোভাবেই সুরক্ষায় ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। এবার রাজ্যে গণনাকেন্দ্রের বিন্যাসে বড় রদবদল আনা হয়েছে। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোট গোনা হবে মাত্র ৮৭টি কেন্দ্রে। এর আগে ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০৮টি এবং ২০১৬ সালে ছিল ৯০টি। এবার কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোতে বেশি জোর দিচ্ছে কমিশন। জেলাভিত্তিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলার ৩৩টি আসনের গণনা হবে আটটি কেন্দ্রে। তালিকায় রয়েছে বারাসত কলেজ, বিধাননগর কলেজ, বনগাঁর দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয় এবং ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১২টি গণনাকেন্দ্র। ঠাকুরপুকুরের বিবেকানন্দ কলেজ থেকে ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সর্দার কলেজ পর্যন্ত বিস্তৃত এই নিরাপত্তা বলয়। কলকাতার ১১টি কেন্দ্রের ভোট গোনা হবে পাঁচটি জায়গায়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম ও সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুল। এছাড়া আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে দু’টি নির্দিষ্ট কেন্দ্র। পাহাড়েও প্রস্তুতির খামতি নেই। কালিম্পঙের একটি আসনের গণনা হবে স্কটিশ উইনিভার্সিটিস মিশন ইনস্টিটিউশনে। পশ্চিমের জেলাগুলোতেও কড়া পাহারা। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনের গণনা হবে রানি ইন্দিরা দেবী সরকারি স্কুলে। কোচবিহারের ন’টি আসনের জন্য পাঁচটি কেন্দ্র এবং মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের জন্য ছ’টি কেন্দ্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে। হুগলির ১৮টি আসনের গণনা হবে ছ’টি কেন্দ্রে। হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের গণনা চলবে চারটি করে কেন্দ্রে। বাঁকুড়া ও বীরভূমের জন্য বরাদ্দ তিনটি করে কেন্দ্র। পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গ বানিয়ে ইভিএম আগলে রাখছে কমিশন। গণনার দিন পর্যন্ত এই কড়া নজরদারি জারি থাকবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই বাড়তি সতর্কতা। প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন নিরাপত্তার সামান্যতম বিচ্যুতি না ঘটে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। কোনো অননুমোদিত প্রবেশ রুখতে সিসিটিভি ক্যামেরায় চলবে চব্বিশ ঘণ্টার নজরদারি। কমিশনের এই বাড়তি তৎপরতায় আশ্বস্ত রাজনৈতিক দলগুলোও। এখন শুধু গণনা শুরুর অপেক্ষা। প্রতীকী ফটো।
শুভেন্দুর নিরাপত্তা নিয়ে অনড় কোর্ট, জুতো-কাণ্ডে তলব নবান্নের রিপোর্ট