‘থাড’ রেডারের ওপর হামলা ইরানের । ছবি-সংগৃহিত ।
নয়া জামানা ডেস্ক : আকাশজুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা আর মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। শনিবার ভোরে ইজরায়েলি বায়ুসেনার অতর্কিত হানায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ইরানের এই ব্যস্ততম বাণিজ্যিক বিমানবন্দরটি। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ায় রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি যাত্রিবাহী বিমান ভস্মীভূত হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, এই সংঘাতের আবহে আমেরিকার অত্যন্ত শক্তিশালী ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নজরদারির দ্বিতীয় ‘চোখ’ উপড়ে ফেলে তেহরান ওয়াশিংটনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শনিবার ভোরে ইজরায়েলি বিমান হামলার তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে আসা ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মেহরাবাদ বিমানবন্দর থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে মিশছে। যদিও সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি নয়া জামানা। স্থানীয় সূত্রের খবর, ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলি শুধুমাত্র বিমানবন্দর নয়, তেহরানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সামরিক বাঙ্কার এবং কেরমানশাহ শহরের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করেছে। ইজরায়েলি বায়ুসেনার দাবি, প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান একযোগে এই অভিযানে অংশ নেয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের জন্য নির্মিত গোপন এবং সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারটিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার আগেই খামেনেই নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই গোপন ঘাঁটিগুলি চিহ্নিত করার পর এবার তা সমূলে বিনাশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তেল আভিভ।
পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানও। জর্ডনের মুয়াফ্ফক সাল্টি সেনাঘাঁটিতে মোতায়েন করা আমেরিকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রেডারটি ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকে যে কোনও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম ছিল। উপগ্রহচিত্রে ওই রেডার ব্যবস্থার কাছে দুটি বিশালাকার গর্তের চিহ্ন মিলেছে। সিএনএন-এর দাবি অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ‘আরটিএক্স কোর এএন/টিরিওয়াই-২’ রেডারটি বিকল হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে ক্ষয়ক্ষতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে।
এর আগে কাতার সংলগ্ন আল উদেইদ ঘাঁটিতে আমেরিকার ৫০০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘এফপিএস ১৩২’ রেডারটিও ইরান নষ্ট করে দিয়েছিল বলে খবর। গত ফেব্রুয়ারিতে জর্ডনে বসানো এই ‘থাড’ ব্যবস্থাটি ছিল আমেরিকার অন্যতম প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা কবচ। এটি মূলত মহাকাশ ছুঁয়ে আসা ‘স্পেস মিসাইল’ রুখতে ব্যবহৃত হয়। লকহিড মার্টিনের তৈরি এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ইরান অকেজো করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কৌশলগত অবস্থান বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করা হচ্ছে। তেহরানের সাফ কথা, জর্ডন ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি এখন তাদের নিশানায়। সবমিলিয়ে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হানায় আপাতত বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে গোটা পশ্চিম এশিয়া।
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আঁচ শ্রীলঙ্কা উপকূলেও, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে লাশের সংখ্যা