তারিক আনোয়ার, নয়া জামানা, বীরভূম: বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া শহরে এক মার্বেল ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে নাবালিকা পরিচারিকার দেহ উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। শুক্রবার ভোর রাতে সাঁইথিয়ার ওই ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং অস্বাভাবিক এই মৃত্যুকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকা দীর্ঘদিন ধরেই ওই মার্বেল ব্যবসায়ীর বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত।পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ছোটবেলা থেকেই তাকে কাজ করতে হয় বলে জানা গেছে। প্রতিদিনের মতোই সে ওই বাড়িতেই ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তার মৃত্যুর খবর সামনে আসায় সন্দেহ দানা বাঁধে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁইথিয়া থানার পুলিশ। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছে, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী তা এখনও স্পষ্ট নয়।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।এদিকে, নাবালিকার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সঠিক তদন্ত না হলে সত্য সামনে আসবে না। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সাঁইথিয়া–সিউড়ি প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন।পথ অবরোধের জেরে কিছু সময়ের জন্য ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকেও দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে ধীরে ধীরে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এখনও পর্যন্ত পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বাড়ির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে তদন্তকারী পুলিশ।