বাবলু রহমান, জলপাইগুড়ি: শারদোৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে মহালয়ার পুণ্যলগ্নে বিশেষ উদ্যোগ নিল জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি মহকুমার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আবোল তাবোল’। পুজোর আগে ঢাকিদের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন পোশাক ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি মহালয়ার সকালে তাঁদের পেট ভরে খাওয়ানোরও ব্যবস্থা করা হয়। একই অনুষ্ঠানে গত সেপ্টেম্বর মাসে গজলডোবার তিস্তায় একটি হস্তিশাবক উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া পাঁচ মৎস্যজীবীকেও ডেকে বিশেষ সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এবছর অষ্টম বর্ষে পা দিল ‘আবোল তাবোল’-এর এই বিশেষ উদ্যোগ। ধূপগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ২৫০ জন ঢাকিকে নিয়ে মহালয়ার সকালে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ঢাকের তালে তালে গোটা ধূপগুড়ি শহর পরিক্রমা করেন ঢাকিরা। তাঁদের ঢাকের আওয়াজে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে পুজোর আগমনী বার্তা। অন্যদিকে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেয় সংগঠনটি। দুর্গাপুজোর আবহে ঢাকিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ঢাকের বাদ্য ছাড়া বাঙালির শারদোৎসব যেন অনেকটাই অসম্পূর্ণ। অথচ সারা বছর বহু ঢাকিকে জীবিকা নির্বাহের জন্য নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। সেই সমস্ত মানুষের মুখে পুজোর আগে হাসি ফোটাতেই ‘আবোল তাবোল’-এর এই উদ্যোগ। মহালয়ার পুণ্য তিথিতে নতুন পোশাক ও হাতে আর্থিক সহায়তা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ঢাকিরা। পাশাপাশি তাঁদের জন্য খাবারের আয়োজনও অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে। শুধু ঢাকিদের সম্মান জানানোই নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার নজিরও তুলে ধরে সংগঠনটি। গত সেপ্টেম্বর মাসে গজলডোবার তিস্তায় একটি হস্তিশাবক উদ্ধারের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন পাঁচ মৎস্যজীবী। তাঁদের সেই ভূমিকার স্বীকৃতি দিতেই এদিন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে বিপদের মুহূর্তে মানুষের মানবিক উদ্যোগকে সম্মান জানানোর বার্তাও উঠে আসে। উৎসব মানে শুধু নতুন পোশাক, আলো কিংবা আনন্দ নয় উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা লুকিয়ে রয়েছে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে। মহালয়ার সকালে ঢাকিদের সম্মান জানানো থেকে শুরু করে হস্তিশাবক উদ্ধারে যুক্ত মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়ানো ‘আবোল তাবোল’-এর এই উদ্যোগ সেই মানবিক বার্তাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল। পুজোর আগেই নতুন পোশাক, আর্থিক সহায়তা ও সম্মান পেয়ে খুশি ঢাকিরা। আর তাঁদের ঢাকের তালে তালে ধূপগুড়ি শহর যেন স্বাগত জানাল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে।
ভোটের সকালে ইভিএম বিপর্যয়! পুরাতন মালদার একাধিক বুথে ভোটদানে চরম ভোগান্তি