টিনা প্রামাণিক,মালদা: পূর্ব মেদিনীপুর ও নদীয়ার পর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে এবার মালদহ জেলা পরিষদও দখলে নিল বিজেপি। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ জন সদস্যের সরাসরি সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে নতুন বোর্ড গঠন করে বিজেপি। বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপির দীপালি বালা সভাধিপতি এবং তৃণমূলের লিপিকা ঘোষ সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হন।
৪৩ আসনের মালদহ জেলা পরিষদে বোর্ড গড়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ২২ জন সদস্যের সমর্থন। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী বিজেপির পাশে দাঁড়ানোয় খুব সহজেই সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলে পদ্ম শিবির। তবে তৃণমূল কেন বিজেপির হাত ধরে বোর্ড গড়ল, তা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য মেলেনি। বিজেপির দাবি, এলাকার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের ওপর বিরক্ত হয়েই বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধী সিপিএম ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছে, যারা দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে, তারাই আবার জেলা স্তরে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কীভাবে রাজনীতি করছে।বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে সোমবার গভীর রাত থেকেই এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলা পরিষদের ৩ জন সদস্য তাঁদের সমর্থন করার কথা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী ও প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর ওই সদস্যদের নিয়ে ফিরছিলেন। কিন্তু মালদহ স্টেশনে পুলিশ ওই তিন সদস্যকে আটক করে। এ নিয়ে স্টেশন চত্বরে কংগ্রেস সাংসদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডাও হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, দলীয় সদস্যদের অন্যায়ভাবে আটক রেখে ভয় দেখিয়ে সম্পূর্ণ জোর জবরদস্তি করে এই বোর্ড গঠন করেছে বিজেপি।