সুস্মিতা রায়, নয়া জামানা, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ির জন্য গর্বের খবর। পরিচালক রঞ্জন দত্তের নতুন বাংলা চলচ্চিত্র ‘আনন্দ আশ্রম’-এ নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ময়নাগুড়ির মেয়ে ঋত্বিকা মণ্ডল। আগামী ৩১ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। প্রথম ছবিতেই মুখ্য চরিত্রে সুযোগ পাওয়ায় খুশির আবহ ঋত্বিকার পরিবার ও এলাকাজুড়ে।
ময়নাগুড়ির এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা ঋত্বিকার বাবা দিনা মণ্ডল পেশায় আলু ব্যবসায়ী এবং মা গৃহবধূ। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তাঁর। সেই আগ্রহ থেকেই অভিনয়ের জগতে পা রাখা। দীর্ঘ পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে এবার বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন তিনি।
ঋত্বিকা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে কলকাতায় থেকে ছবির শুটিং করেছেন। এই দীর্ঘ পথচলায় বাবা-মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। তাঁর কথায়, বাবা-মায়ের সমর্থন না থাকলে আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না। তাঁদের বিশ্বাস ও আশীর্বাদই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবির ইউনিটের প্রত্যেক সদস্য তাঁকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। নতুন শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও কেউ তাঁকে আলাদা চোখে দেখেননি। বরং উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন।
আগামী দিনে আরও বড় বাংলা ছবিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে ঋত্বিকা বলেন, গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে এই সাফল্য সহজে আসেনি। কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থনই তাঁর স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করেছে।
নিজের প্রথম সিনেমা মুক্তির আগে জেলার মানুষের উদ্দেশে ঋত্বিকার আবেদন, সবাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ‘আনন্দ আশ্রম’ দেখবেন। আপনাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদই আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।
৩১ জুলাই ছবির মুক্তির অপেক্ষায় এখন ময়নাগুড়ি। স্থানীয়দের আশা, বড় পর্দায় ঋত্বিকা মণ্ডলের অভিনয় দর্শকদের মন জয় করবে এবং উত্তরবঙ্গের মুখ আরও উজ্জ্বল করবে।