দীপঙ্কর দোলাই,নয়া জামানা : রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বিধানসভার স্পিকার কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। সম্ভাব্য নামের তালিকায় উঠে এসেছিল অভিজ্ঞ বিধায়ক তাপস রায়, স্বপন দাশগুপ্ত ও সজল ঘোষের নামও। তবে শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে বেছে নিল কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু-কে।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক, সম্মানীয় শ্রী রথীন্দ্র বোস মহাশয়কে ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। আমার স্থির বিশ্বাস, তিনি সর্বসম্মতিক্রমে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিরোধী শিবির যদি রথীন্দ্রনাথ বসুর বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী না দেয়, তাহলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না এবং সর্বসম্মতিক্রমে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন।
রথীন্দ্রনাথ বসুকে এই দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই প্রথমবার উত্তরবঙ্গের কোনও নেতাকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদে মনোনীত করা হল।
বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি বিজেপির উত্তরবঙ্গ বিভাগের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
কোচবিহারের দেবীবাড়ির ভূমিপুত্র রথীন্দ্রনাথ বসু দীর্ঘ সময় শিলিগুড়িতে সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও পরিষদীয় রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম, তবে সুবক্তা এবং দীর্ঘদিনের সংঘ ও বিজেপি সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচিতি দলীয় মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।
স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় রথীন্দ্রনাথ বসু বলেন, দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটাই পালন করব। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে বিধানসভায় বিরোধীদের পর্যাপ্ত বক্তব্য রাখার সুযোগ ছিল না। তাঁর কথায়,ভারতীয় জনতা পার্টি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বিধানসভায় সকলের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
কলকাতায় ভোট হবে শান্তিপূর্ণ,দায়িত্ব পেয়েই কড়া বার্তা নতুন সিপির