অভিজিত চক্রবর্তী,নয়া জামানা, আলিপুরদুয়ার: বক্সায় ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। ‘টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন প্রোগ্রাম’ বা বাঘ পুনঃপ্রবর্তন প্রকল্পের আওতায় বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়া হলো প্রথম বাঘিনীকে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের বন মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ উপস্থিত থেকে এই বিশেষ পদক্ষেপের সূচনা করেন। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আনা বাঘিনীটিকে বক্সার কোর অঞ্চলে উন্মুক্ত করা হয়। বাঘের পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে গত কয়েক বছরে প্রায় ৩৮০ হেক্টর এলাকায় ঘাসজমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং বনাঞ্চলে ৮০০টিরও বেশি চিতল হরিণ ছাড়া হয়েছে।বাঘিনীর গতিবিধি, শিকারের ধরন এবং শারীরিক পরিস্থিতির ওপর চব্বিশ ঘণ্টা নজর রাখতে রেডিও কলার ও ট্র্যাপ ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে আরও তিনটি বাঘ বক্সার অরণ্যে আনা হবে।বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত এড়াতে এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত করতে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির যৌথ বন পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় বনবাসীদের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করে প্রকল্পের গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে।পাশাপাশি, ইকোট্যুরিজম ও প্রকৃতি পর্যটন বিকাশের মাধ্যমে বননির্ভর বাসিন্দাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জানান, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বক্সা বনে বাঘের বংশবৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপের মেলবন্ধনেই বক্সার বনাঞ্চল আগামী দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির জন্য মাইলফলক হয়ে উঠবে।