নয়া জামানা:পূর্ব হিমালয়ের রাজ্য সিকিমে ৪০টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিতে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ প্লাবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে পার্বত্য অঞ্চলের নীচের জনবসতির জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসজনিত বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বহু মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে এই তথ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যদিও ওই বিপর্যয় হ্রদ-বিস্ফোরণজনিত বন্যা ছিল না।এদিন গ্যাংটকে আয়োজিত এক মিডিয়া সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান সচিব সন্দীপ তাম্বে জানান, রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে হ্রদগুলি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ৪০টি হ্রদের মধ্যে ১৬টি সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটাগরি এ, দুটি ক্যাটাগরি বি এবং নয়টি ক্যাটাগরি সি-তে রয়েছে, বাকি ১৩টির শ্রেণিবিন্যাস এখনও বাকি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিমে এমনই এক বন্যায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু ও চুংথাং বাঁধ ধ্বংস হয়েছিল।সিকিম সরকার লোনাক কমপ্লেক্স, শাকো ছো এবং গুরুদংমার কমপ্লেক্সের জন্য পৃথক প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ শাকো ছো-র প্রকল্প প্রতিবেদন জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েছে। দেশের প্রথম নির্দিষ্ট ‘গ্লফ’ ঝুঁকি প্রশমন প্রোটোকল তৈরির কাজও চলছে, যা হিমালয়ের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য মডেল হতে পারে। একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন এবং অতিরিক্ত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী সেন্সর বসানোর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।