নয়া জামানা : মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এবার পাউরুটির বাজারে। পুজোর বহু আগেই দাম বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্যের। আগামী ১৭ অগস্ট, সোমবার থেকে বেকারি পাউরুটির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বেকারি অ্যাসোসিয়েশন। নতুন দামে প্রতি পাউন্ড পাউরুটিতে ৪ টাকা এবং হাফ পাউন্ড পাউরুটিতে ২ টাকা বেশি খরচ করতে হবে ক্রেতাদের।
হঠাৎ কেন এই দাম বৃদ্ধি? বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়দা, চিনি, ভোজ্য তেল এবং প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম হঠাৎ করে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তার জেরেই বাধ্য হয়ে পাউরুটির দাম বাড়াতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “ময়দার দাম সাধারণত পুজোর আগে বাড়ে, এত আগে বাড়ে না। কিন্তু এ বার হঠাৎ করেই দাম বেড়ে গিয়েছে।” ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ময়দার দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৬ টাকা বেড়েছে, যার জেরে পাউরুটি তৈরির খরচ যথেষ্ট বেড়ে গিয়েছে।
শুধু ময়দা নয়, চিনি এবং ভোজ্য তেলের দামও একই সঙ্গে বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন বেকারি ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা এবং ভোজ্য তেলের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৮ টাকা বেড়েছে। এর পাশাপাশি পলিথিন-সহ প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি, এমনটাই মত বেকারি ব্যবসায়ীদের। আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পলিথিন, প্যাকেজিং মেটেরিয়াল এবং প্রিন্টিংয়ের কালির মতো উপকরণগুলি মূলত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য থেকে তৈরি হয়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এই ধরনের উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়াতেই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁর ব্যাখ্যা।
পাউরুটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকাভুক্ত, তাই এর দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে আমজনতার পকেটে। তবে এই দাম বৃদ্ধির ফলে ব্যবসাতেও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা নিজেরাই। আরিফুল ইসলামের কথায়, কোনও জিনিসের দাম বাড়লে বাজারে সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ৪০ শতাংশ বিক্রি কমে যায়। তা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ সামলাতে এই সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না বলেই জানাচ্ছেন তিনি।
‘আগে কষ্ট করলে পরে কষ্ট কম হবে’- পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য দিলীপের